মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাঁকে ‘স্ট্রংম্যান’ বলেই চেনেন সকলে। গত নির্বাচনে তিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন। ঈবার সেই বর্ষীয়ান নেতা শরদ পাওয়ার নিজের দল এনসিপি-র সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা করলেন।
দলের বৈঠকে এদিন শরদ পাওয়ার জানান, তিনি আর সভাপতির পদে থাকছেন না। পরবর্তী সাংগঠনিক প্রক্রিয়া দলের শীর্ষ কমিটি সম্পূর্ণ করবে বলে জানান তিনি। বিগত কিছুদিন ধরেই পাওয়ার পরিবারে চড়াই-উতরাই চলছিল। শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তা নিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি।
এমন আবহে শরদ পাওয়ারের সভাপতি পদ ছাড়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও পাওয়ারের এনসিপি সভাপতি পদ ছেড়ে দেওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। বিরোধী শিবিরের অন্যতম বলিষ্ঠ নেতা হিসাবে পাওয়ার তাঁর ভূমিকা পালন করছিলেন। এখন দলের সভাপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার পর কে দায়িত্বে আসবেন, সেই নেতৃত্ব বিজেপির সঙ্গে কতটা টক্করের সাহস দেখাবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বৈ কী!
আজ, মঙ্গলবার মুম্বইয়ে তাঁর একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন শরদ পাওয়ার। সেখানেই তিনি ন্যাশানালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি।
#WATCH | "I am resigning from the post of the national president of NCP," says NCP chief Sharad Pawar pic.twitter.com/tTiO8aCAcK
— ANI (@ANI) May 2, 2023
তিনি যখন এদিন পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন তখন স্লোগানে ফেটে পড়ে হল। এনসিপি সমর্থকরা বলতে থাকেন, “সাহেবকে আমরা যেতে দেব না”। কিন্তু পাওয়ার তাঁদের উদ্দেশে স্পষ্ট বলেন, সব কিছুর একটা সময় আছে। রাজনীতিতেও পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়।
পাওয়ারের আত্মজীবনী যে এদিনই প্রকাশ করা হবে তা আগে থেকেই ঠিক ছিল। সেই কারণে এদিন সকালে অনুষ্ঠানে যোগও দেন তিনি। কিন্তু তখনও কেউ জানতেন না তিনি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে চলেছেন। তাই আচমকা এই ঘোষণায় ভেঙে পড়েন অনেক নেতা-কর্মীই।
যে জায়গায় অনুষ্ঠান হচ্ছিল সেখানেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। অনেকেই বলতে থাকেন শরদ পাওয়ার যদি নিজের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করেন, তাহলে তারা ওই জায়গা ছেড়ে যাবেন না। এখন দেখার জল কোনদিকে গড়ায়। নিজের সিদ্ধান্ত কী পাওয়ার প্রত্যাহার করবেন নাকি নতুন সভাপতি পাবে এনসিপি, এখন সেটাই দেখার।





