পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নাতে অপহরণ করে খু’ন করা হয়েছে বিজেপির ব্লক সভাপতিকে। সেই খু’নের প্রতিবাদে এবার ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মৃত বিজেপি নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান শুভেন্দু। বিজেপি নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে ময়না থানায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতা-কর্মীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভস্থলেও যান শুভেন্দু।
এদিন বিক্ষোভস্থলে পৌঁছে শাসক দলের বিরুদ্ধে ফের একবার ক্ষোভ উগড়ে দেন শুভেন্দু। সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের দুর্বৃত্তরা জঙ্গলের রাজত্বে পরিণত করেছে ময়নাকে। পুলিশকে দলদাসে পরিণত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের উপর ভরসা রাখুন। সমাধান হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের বহু এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরেছে। ময়নাতেও ফিরবে”।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, “বিজয়কৃষ্ণের হত্যাকে সাক্ষী রেখে বলে গেলাম আপনারাও স্থায়ী শান্তি পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পুলিশকে কী ভাবে সাঁড়াশিতে আটকাতে হয়, আমি জানি। আমি তা করে দেখাব”।
প্রসঙ্গত, ময়না বিধানসভার বাকচা অঞ্চলের ২৩৪ নং বুথের সভাপতি ছিলেন বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইঞা। তাদের অভিযোগ, গতকাল, সোমবার সন্ধেবেলা বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইঞাকে কেউ বা কারা তুলে নিয়ে যায় বাড়ি থেকে। এই খবর পেয়ে বিজেপি নেতৃত্বে তাঁর খোঁজে তৎপর হয়। কিছুক্ষণ পর উদ্ধার হয় বিজয়কৃষ্ণর দেহ।
তাঁর পরিবার ও দলের অভিযোগ, কেউ বা কারা তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকচা এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়, এরপরই খবর মেলে যে সঞ্জয় তাঁতি নামে আরও এক বিজেপি সদস্যের খোঁজ মিলছে না। বিজেপির অভিযোগ, তাঁকেও অপহরণ করেছে তৃণমূল কর্মীরা। বিজেপির এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বিজেপি সদস্যের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
বিজেপি নেতার এই মৃত্যু প্রসঙ্গে তৃণমূলের দাবী এই মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই। স্থানীয় তৃণমূল নেতা মনোরঞ্জন হাজরা বলেন, “দিন কয়েক আগে গোরামহল গ্রামের বাসিন্দা সরস্বতী মণ্ডলের বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুর হয়। ময়না থানায় তার অভিযোগ দায়ের হয়। তার জেরেই সোমবার বিকেলে বিজয়কৃষ্ণের সঙ্গে কয়েক জনের বচসা বাঁধে। নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এর পিছনে রাজনীতির কোনও যোগ নেই”।





