মমতা ‘বাঘিনী’ হতেই পারেন, কিন্তু শেষ ভরসা সোনিয়াতেই, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে বিরোধী ঐক্যে শান দিতে নারাজ শিবসেনা

বিজেপি বিরোধী জোটে শান দিতে কিছুদিন আগেই মুম্বই সফরে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেখা করেন উদ্ধব ঠাকরের পুত্র আদিত্য ঠাকরের সঙ্গে। শরদ পাওয়ারকে পাশে নিয়ে ইউপিএ জোটকে অস্বীকার করেন মমতা। এমন ঘটনার পর অনেকেই মনে করেছিলেন যে বিরোধী জোট হয়ত এবার চালনা করবেন মমতাই। কিন্তু সে ভাবনায় জল ঢেলে দিল শিবসেনা। শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-তে পরিস্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কংগ্রেসকে ভুলে বিরোধী জোট কোনওভাবেই সম্ভব নয়।

একুশের নির্বাচনে মমতা যেভাবে বিজেপিকে ধরাশায়ী করেছেন, এর প্রশংসা করে শিবসেনা। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘিনী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল যেভাবে কংগ্রেসকে ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছে, তা একেবারেই মানতে নারাজ উদ্ধব ঠাকরেরা। মমতাকে ছেড়ে রাহুল-সোনিয়ার পাশেই দাঁড়িয়েছে শিবসেনা।

মুম্বই গিয়ে মমতা আদিত্য ঠাকরের সঙ্গে দেখা করেন। বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী জোট নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। বৈঠক শেষে, আদিত্য ঠাকরের কথাও কোনওরকম আভাস মেলেনি যে শিবসেনা এমন একটি বোমা ফাটাতে চলেছে।

এদিকে, মমতা ইউপিএকে পাশ কাটিয়ে যে বিকল্প জোটের কথা বলেছেন, তাও মেনে নিতে নারাজ শিবসেনা। ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিরোধীদের একজোট রাখতে ইউপিএ-কে দরকার। শিবসেনার মতে, ইউপিএকে বাদ দিয়ে বিকল্প কোনও বিরোধী জোট তৈরি করা মানে বিজেপির হাতই শক্ত করা।

ইউপিএ জোটের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে শিবসেনার তরফে বলা হয়, “নরেন্দ্র মোদীর এনডিএকে প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিরোধীদের অবশ্যই ইউপিএকে দরকার”।

কোনও রাজনৈতিক দলের সরাসরি নাম না করে বলা হয়েছে, “যদি কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ জোট নিয়ে কারও কোনও সমস্যা হয়, তাহলে তাদের উচিত সেই নিয়ে সরাসরি কথা বলা”। এ ক্ষেত্রে কোথাও তৃণমূলের নাম নেওয়া হয়নি ঠিকই, তবে উদ্ধব ঠাকরেরা ঠিক কোনদিকে ইঙ্গিত করছে, তা বেশ স্পষ্ট।

এর আগেও বিরোধী জোট প্রসঙ্গে মমতাকে ছেড়ে সোনিয়া-রাহুলদের পাশেই দাঁড়াতে দেখা যায় শিবসেনাকে। শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত স্পষ্টই জানিয়ে দেন যে ২০২৪ সালে একটি জোট সরকার ক্ষমতায় আসবে আর এতে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী জোট বিষয়টি কেমন যেন আলগা হয়ে পড়ছে। তৃণমূলের তরফে ক্রমেই কংগ্রেসকে বারবার তোপ দাগা হচ্ছে। এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। তবে রাহুল গান্ধীকে এই বিষয়ে কিছু জিজ্ঞসা করা হলে, বেশ কৌশল নিয়েই এই বিষয় এড়িয়ে যান তিনি।

আরও অন্যান্য খবর