দেশের রাজনীতি মানেই কৌশল, সংঘর্ষ আর বিতর্ক। আর সেই রাজনীতির মঞ্চে যদি উঠে আসে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পরিবারের নাম, তাহলে তা যেন আরও বড় আলোড়ন তোলে। সাধারণ মানুষের করের টাকা, রাজনৈতিক দলগুলির তহবিল—এসব নিয়ে সচেতনতা এখন অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু এমনও কি সম্ভব, যে একটি রাজনৈতিক পরিবার ঘুরপথে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে?
রাজনৈতিক দলের টাকা সাধারণত দেশের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। কিন্তু সময় সময় অভিযোগ ওঠে যে এই অর্থ ব্যবহৃত হয় বিশেষ কিছু ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধির জন্য। এমনকি, দলের প্রভাবশালী নেতাদের সম্পত্তি বাড়ার পেছনেও থাকে এই তহবিল ব্যবহারের ইঙ্গিত। সম্প্রতি এমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে আবারও সামনে এল ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’ মামলার নাম, যেখানে সরাসরি টান পড়েছে গান্ধী পরিবারের দিকে।
দিল্লির এক আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) জানায়, ন্যাশনাল হেরাল্ড দুর্নীতির মাধ্যমে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধী প্রাপ্ত হয়েছেন ১৪২ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে ইডি প্রায় ৭৫২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে এই মামলায়। কিন্তু শুধু বাজেয়াপ্ত নয়, ইডি-র দাবি অনুযায়ী, সেই টাকা অবৈধভাবে নিজেদের কাছে রেখে তা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : পাড়ার ক্লাবগুলোকে হাতে রাখুন: পুলিশকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, উঠছে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন!
২০০৮ সালে ‘অ্যাসোসিয়েট জার্নালস লিমিটেড’-এর আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক এক সংস্থা ২০১১ সালে ন্যাশনাল হেরাল্ড ও অন্যান্য পত্রিকা অধিগ্রহণ করে। এই সংস্থার ৭৬% শেয়ারের মালিক সোনিয়া ও রাহুল। বাকি শেয়ার প্রয়াত কংগ্রেস নেতা অস্কার ফার্নান্ডেজ ও মতিলাল ভোরা। অভিযোগ, মাত্র ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কংগ্রেস পরিচালিত এই সংস্থা অধিগ্রহণ করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। সেই সময়ে সংস্থার ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকা, যা কংগ্রেস ছেড়ে দেয়—আইন লঙ্ঘন করে।
এই মামলায় ইডি-র দাবি অনুযায়ী, সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী অবৈধভাবে ১৪২ কোটি টাকা ব্যক্তিগতভাবে পেয়েছেন। শুধু গান্ধী পরিবারই নয়, এই দুর্নীতিতে স্যাম পিত্রোদা, সুমন দুবে প্রমুখদের নামও জড়িয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দল হয়েও কংগ্রেস দলের করমুক্ত তহবিল থেকে এই টাকা ঋণ হিসাবে দেওয়া এবং পরে সেটি মকুব করাটা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল, এমনটাই মনে করছে ইডি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ইতিমধ্যেই ৭৫১.৯ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং মামলার তদন্ত এখনও চলছে। এই মামলার ভবিষ্যত কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন নজরে দেশবাসীর।





