বাড়ির পাশেই যদি কোনও অচেনা মুখ ঘোরাঘুরি করে, যদি ক্লাব বা বাজারে হঠাৎ নতুন লোক দেখা যায়—তাহলে আজকাল অনেকেই কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। কোথা থেকে এলো? কেনই বা ঘোরাঘুরি করছে? ঠিক এমনই প্রশ্ন উত্তরবঙ্গের মানুষজনের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে মানুষের এই উদ্বেগ অমূলক নয়। পাশাপাশি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অনেকে হতাশও বটে।
বর্ষাকালে পাহাড়ি নদীগুলোর আচরণ অত্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। ভূটান বা সিকিম থেকে হঠাৎ জল ছাড়লে নিমেষে প্লাবিত হয় আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার কিংবা মালদহের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন সাধারণ মানুষ—বাড়ি, চাষের জমি, এমনকি জীবিকাও হারান। প্রশাসনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর থাকে, তারা ঠিক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা জানার আগ্রহ সকলের।
এই পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। কোচবিহার, মালদহ, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ আটটি জেলার আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তিনি পুলিশ, স্বাস্থ্য, নগরোন্নয়ন, বন ও পঞ্চায়েত দফতরকে নিয়ে কড়া বার্তা দেন। পুরসভার অতিরিক্ত ট্যাক্স, পাইপলাইন ছাড়া, শহরের গাইডলাইন না মানা পঞ্চায়েত—সব কিছু নিয়েই তিনি প্রশ্ন তোলেন। তবে এখানেই থেমে থাকেননি।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিএসএফের ভূমিকার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তৎপরতাও বাড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, “আগে পুলিশ তিন-চারবার এলাকায় ঘুরত, এখন সেটা হয় না। পুলিশ ভ্যান বেশি করে ঘুরলে মানুষ বুঝবে তারা অ্যালার্ট আছে।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “পাড়ার ক্লাবগুলোকে হাতে রাখুন। যতদিন যেখানে থাকবেন, কাজ ভাল করে করতে হবে।” শীতলকুচির একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, একজন কৃষককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এই বিষয়ে তিনি নিজে তৎপর হয়ে ব্যবস্থা নেন।
আরও পড়ুনঃ Taliban vs Pakistan water conflict: ভারতের পর আফগানিস্তানের ধাক্কা! এবার তালিবান চায় পাকিস্তানের দিকে জলপ্রবাহ বন্ধ করতে!
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ এবং উত্তেজক খবর ছড়ানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আজকের দিনে ফেক বিক্রি টাকা ইনকামের পথ হয়ে উঠেছে। ডিজিটালে এমন খবর দেখা যাচ্ছে যা উত্তেজনা বাড়াতে পারে।” পাশাপাশি জানান, আসাম বা অন্য রাজ্য থেকে ভুয়ো পরিচয়ে কেউ যদি রাজ্যে ঢুকে সাধারণ মানুষের তথ্য হাতিয়ে নেয়, তা যেন কোনওভাবেই না ঘটে। “পুলিশকে বলব, অ্যালার্ট থাকুন। কোনও জঙ্গি যেন আশ্রয় নিতে না পারে,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি বলেন, “নর্থ বেঙ্গলে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন, তাই মন দিয়ে কাজ করতে হবে।”






