প্রায় এক দশক ধরে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে থাকা সারদা কেলেঙ্কারি (Saradha Scam) আবারও শিরোনামে। দীর্ঘ আইনি লড়াই, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে হঠাৎই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে এই মামলাকে ঘিরে। কারণ, এমন একটি সিদ্ধান্ত এসেছে যা পুরনো বিতর্ককে ফের সামনে এনে দিয়েছে।
বুধবার আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে স্বস্তি মিলেছে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। আগে অন্যান্য মামলাতেও জামিন পাওয়া থাকায়, এই সিদ্ধান্ত কার্যত তাঁর জেলমুক্তির পথ পরিষ্কার করে দিল। সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই তিনি জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে নজর ছিল কুনাল ঘোষের প্রতিক্রিয়ার দিকে। কারণ, একসময় তিনিও সারদা গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং পরে এই মামলায় গ্রেফতারও হন। ফলে তাঁর মন্তব্য ঘিরে কৌতূহল ছিল প্রবল।
অবশেষে মুখ খুলে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়টিকে তিনি সম্পূর্ণ আইনি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখছেন। তাঁর কথায়, “এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। যে কোনও অভিযুক্তের আদালতের কাছে জামিন চাওয়ার অধিকার আছে। আদালত শুনানি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যে তিনি বিতর্ক এড়িয়ে একপ্রকার নিরপেক্ষ অবস্থানই বজায় রাখলেন।
আরও পড়ুনঃ “সপরিবারে আ*ত্মহ’ত্যা ছাড়া আর কোনও পথ নেই” অন্যের দোষে চিরসখা কেন বন্ধ হলো? সমাজ মাধ্যমে আবেগী হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ রাজা-মধুবনীর!
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সারদা গোষ্ঠী ভেঙে পড়ার পর থেকেই এই মামলায় একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। একই বছরে গ্রেফতার হন সুদীপ্ত সেন এবং পরে কুণাল ঘোষও। দীর্ঘ সময় জেলে থাকার পর ২০১৬ সালে জামিন পান কুণাল। সেই সময় তিনি নিজেকে ‘বলির পাঁঠা’ বলে দাবি করেছিলেন এবং আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। বর্তমানে তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই প্রেক্ষাপটে সুদীপ্ত সেনের জামিন নতুন করে পুরনো প্রশ্নগুলোকে সামনে এনে দিল বলেই মনে করছেন অনেকে।





