প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন লালকেল্লায় হামলাকারীরা জোর করে ঢুকে জাতীয় পতাকার জায়গায় ধর্মীয় পতাকা উড়িয়ে দেন। চূড়ান্ত অপমান হয় জাতীয় পতাকার। এই তাণ্ডবের মূল পাণ্ডা, যার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটানো হয়, সেই কৃষক নেতা সুখদেব সিংকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারেরপর তিনি স্বীকারও করেছেন যে, এই পুরো ঘটনা ঘটেছে তাঁর ইশারাতেই।
অপরাধ দমন শাখার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, লালকেল্লা কাণ্ডের পর সিংঘু বর্ডারের ধর্নাস্থলে লুকিয়েছিলেন সুখদেব সিং। তবে সেখান থেকে দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। গত ৬ই ফেব্রুয়ারি সুখদেব সিং চাক্কা জ্যামে অংশ নেন। এরপর পিপলি গ্রামে নিজের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।
তিনি খুব ভালোভাবে জানতেন যে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে। নিজের বাড়ির গেলে পুলিশ তাঁকে অবশ্যই গ্রেফতার করবে। এই কারণে গত ৭ই ফেব্রুয়ারি তিনি চণ্ডীগড় যান নিজের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে। এরপর চণ্ডীগড় হাইকোর্টে দিল্লির সিংঘু বর্ডারের ধর্নাস্থলে বিদ্যুৎ ও জলের লাইন বন্ধ করার জন্য পিটিশন দাখিল করতে চান। কিন্তু হাইকোর্ট পৌঁছনোর আগেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার হওয়ার পর সুখদেব নিজেই স্বীকার করেন যে লালকেল্লায় হামলাকারীদের তিনি নেতৃত্ব দেন। তাদের ভাংচুর করার জন্য তিনিই উস্কেছিলেন। লালকেল্লায় পাঞ্জাবী অভিনেতা দীপ সিধু ও যুগরাজ সিংয়ের সঙ্গে তার দেখা হয়। যুগরাজ সেবাদর হিসেবে কাজ করে ও গুরুদ্বারে ঝাণ্ডা তোলার জন্য সে প্রায়ই খাম্বায় চড়ে। এই কারণে তাকেই লালকেল্লায় খাম্বায় চড়ে পতাকা ওড়ানোর নির্দেশ দেন সুখদেব।
তিনি এও স্বীকার করেন যে, তিনিই হামলাকারীদের বলেছিলেন যে তারা যদি ভাঙচুর না করে, তাহলে সরকার তাদের দাবী মানবে না। তাই ভাঙচুর করা ও পতাকা ওড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন সুখদেব সিং নিজের সঙ্গীদের নিয়ে সিংঘু বর্ডার থেকে লালকেল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বলে জানিয়েছেন।





