কংগ্রেসের আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে স্থগিত রইল মধ্যপ্রদেশের আস্থাভোটের শুনানি

মধ্যপ্রদেশের আস্থাভোট মামলাকে সুকৌশলে আরও একদিন পিছিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ। এমনটাই ধারণা করছেন বিজেপির আইনজীবী। সোমবার বিধানসভায় আস্থভোট না হওয়ার জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, কমল নাথ ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।

আজ তাঁর করা মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু, সেই শুনানিতে কংগ্রেসের তরফে আইনজীবীরা সবাই অনুপস্থিত ছিলেন তাই একপ্রকার জোর করেই সর্বোচ্চ আদালতকে মামলার শুনানি একদিন পিছিয়ে দিতে হল। মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে বুধবার সকাল সাড়ে দশটায়।

কালকের ঘটনার পর শিবরাজ সিং চৌহান একমুহূর্ত দেরি না করে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আস্থাভোট করানোর দাবিতে শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা দেন। এবং সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার তার শুনানির তারিখ স্থির করেন। এরপর আজ বিজেপির তরফে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগ অথচ কংগ্রেসের তরফে কোনও আইনজীবী উপস্থিত হননি। বিজেপির আইনজীবী মনে করছেন অত্যন্ত চতুরতার সাথে কমল নাথ আরো কিছুটা সময় বাড়িয়ে নিলেন। মুকুল রোহতগি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কংগ্রেস গণতন্ত্রকে পদদলিত করছে।

বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ও বলেন, আস্থাভোট মামলার শীঘ্র নিষ্পত্তি প্রয়োজন। কিন্তু, এক্ষেত্রে সব পক্ষকেই নোটিস দিতেই হবে। এই অনুযায়ী আজকের মধ্যে কমল নাথ, রাজ্যপাল, মধ্যপ্রদেশের স্পিকার এবং মুখ্য সচিবকে নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে মামলা একদিন পিছিয়ে যাওয়ায় ২৪ ঘণ্টার জন্য স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন কমল নাথ। তবে, এভাবে তিনি কতদিন আস্থাভোট এড়াতে পারবেন, তা নিয়ে সব মহলের অন্দরে চলছে গভীর আলোচনা।

মধ্যপ্রদেশের ক্ষেত্রে কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় সেরাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এদিকে, শুনানিতে খানিকটা স্বস্তি পেলেও দলত্যাগী বিধায়করা সকালেই কমল নাথের মনোবল ভেঙে দিয়েছেন। অবশ্য তাঁরা একেবারে সেই সব ভেবে কিছু করেন নি। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, কারও চাপে পরে তারা পদত্যাগ করেননি বরং স্বয়ং নিজেরাই মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় খুশি না থেকে পদত্যাগ করেছেন তাঁরা।

কিন্তু এটা সত্য নাকি এই পদত্যাগের পিছনে রয়েছে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার একটা কৌশল। তারা এই দল ছেড়ে কি রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নেবেন নাকি অন্যদল যাবার জন্য করলেন তা সময়ই বলবে। তবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর জল্পনা।

RELATED Articles

Leave a Comment