Sydney Shooting: বন্ডাই বিচে রক্তাক্ত রবিবার, গুলিচালনা কাণ্ডে কি সত্যিই পাকিস্তানি যোগ?

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচয়ে রবিবার যে ভয়াবহ গুলিচালনার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ক্রমশ বাড়ছে। জনপ্রিয় এই সৈকতে আচমকা শুরু হওয়া গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ লুটিয়ে পড়েন, আহতদের চিৎকারে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা এলাকা। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটিকে নিছক অপরাধ নয়, বরং সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবেই দেখছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

এই গুলিচালনা কাণ্ডে তদন্ত এগোতেই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। অস্ট্রেলিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় এক পিতা ও পুত্রকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের নাম সাজিদ আক্রম ও নাভিদ আক্রম। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুজনের শিকড় পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত। জানা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন নাভিদ আক্রম সিডনির সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং এর আগে ইসলামাবাদের হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করেছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, নাভিদ আক্রমের কাছে নিউ সাউথ ওয়েলসের বৈধ ড্রাইভার্স লাইসেন্সও পাওয়া গিয়েছে। আরও বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে সন্দেহভাজনদের গাড়ি তল্লাশি করে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাড়ির ভিতর থেকে আইএসআইএসের পতাকা উদ্ধার হয়েছে। যদিও এই তথ্য এখনও সরকারি ভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি, তবু তদন্তকারীরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই হামলার সময় বন্ডাই বিচে চলছিল ইহুদিদের পবিত্র হানুকা উৎসব। উৎসব উপলক্ষে সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেই ভিড়ের মধ্যেই হামলা চালানো হয় বলে দাবি। এই ঘটনার জেরে ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, ধর্মীয় উৎসবকে লক্ষ্য করেই পরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলার ভোটে নজর বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির, কী বার্তা নীতিন নবীনের

সিডনির এই রক্তাক্ত ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে ইজরায়েল থেকেও। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি বিরোধী মনোভাব ক্রমশ বাড়লেও সরকার তা রুখতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। নেতানিয়াহুর কড়া মন্তব্যে আন্তর্জাতিক স্তরে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর