যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়ল। ভাঙচুর এবং অশান্তির অভিযোগে এবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর পুলিশ। এই নিয়ে মোট গ্রেপ্তার ছয়জন। এর আগে মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর পাশাপাশি শুভপ্রতিম দে এবং গৌরব বসুকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়। সোমবার ধৃত সকলকেই আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনায় কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন বাসুদেব দাস, সঞ্জয় দাস এবং অভিজিৎ দাস। তাঁদের বিরুদ্ধেও স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ রয়েছে। শনিবারের ঘটনার পর থেকে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। কোন কোন ব্যক্তি সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিল, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আরও ছয়জনকে নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতিও শুরু করেছে বিধাননগর পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, যাদের তলব করা হচ্ছে তাঁরা কোনও না কোনওভাবে মেসির অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শনিবার যুবভারতীতে মেসির বহু প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠান কার্যত বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। হাজার হাজার দর্শক বিপুল অর্থ ব্যয় করে টিকিট কেটে মাঠে এসেছিলেন প্রিয় ফুটবলারকে এক নজর দেখার আশায়। কিন্তু মাঠে নেতা, আমলা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিড়ে সাধারণ সমর্থকরা মেসিকে দেখতে পাননি। মাঠে নেমে একাধিক ব্যক্তি ছবি তোলা এবং হাত মেলানোর চেষ্টা করেন। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় মেসির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তাঁর ব্যক্তিগত টিম।
মাত্র তেইশ মিনিট মাঠে থাকার পর যুবভারতী ছাড়তে বাধ্য হন মেসি। সৌরভ গাঙ্গুলি এবং উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত অনুরোধ করলেও তিনি আর মাঠে থাকতে রাজি হননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শাহরুখ খানের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার কথা থাকলেও অনুষ্ঠান শুরুর আগেই মেসির প্রস্থান ঘটে। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। শুরু হয় পোস্টার ছেঁড়া, চেয়ার ভাঙা, গোলপোস্টের জাল নষ্ট করা এবং ক্যানোপিতে আগুন লাগানোর মতো ঘটনা।
আরও পড়ুনঃ Sydney Shooting: বন্ডাই বিচে রক্তাক্ত রবিবার, গুলিচালনা কাণ্ডে কি সত্যিই পাকিস্তানি যোগ?
অন্যদিকে হায়দরাবাদ ও মুম্বইয়ে মেসির অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় কলকাতার ঘটনায় আরও বেশি প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার দায় কারা বহন করবে তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার দিল্লিতে শেষ কর্মসূচি রয়েছে মেসির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাতেই তিনি দেশ ছাড়বেন। যুবভারতীর ঘটনায় এখনও ক্ষত কাটেনি, তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।A





