রাজনীতির মঞ্চে আবারও এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিহার ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ যেন তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ভোটারদের মনোযোগ কেড়ে নিতেই এবার শিরোনামে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবেন মোদির নাম। তেজস্বী যাদবের এক জনসভায় এমন কিছু ঘটেছে যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
প্রথমদিকে বিষয়টি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধীরে ধীরে জানা গেছে, তেজস্বী যাদবের সভায় কিছু কর্মী প্রধানমন্ত্রীর মায়ের প্রতি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, সভার মঞ্চে উপস্থিত তেজস্বী নিজেই এই আচরণে নিরব নয়, বরং উৎসাহ দিচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ওই ভিডিওটি নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন। তাঁর দাবি, ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে আরজেডি কর্মীরা কটূক্তি করছে এবং তেজস্বী তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন। এর আগে, রাহুল গান্ধীর ভোটার অধিকার যাত্রার সময়ও প্রধানমন্ত্রী মোদির মায়ের বিরুদ্ধে এমন গালাগাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেবার নেতৃত্বস্থানীয় কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এবার এই ঘটনার সঙ্গে তেজস্বীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
বিজেপি নেতারা ইতিমধ্যেই এই ভিডিওর মাধ্যমে তেজস্বীকে তোপ দাগতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই মন্তব্য করেছেন, “তেজস্বী কংসের মতো বিষ ছড়াচ্ছেন। কংসের পরিণতি যেভাবে হয়েছিল, তাঁরও হবে। বিহার ভোটের মাধ্যমে জনগণ সঠিক জবাব দেবে।” কেউ আবার তাকে পুরাণের খল চরিত্র কালিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার ফলে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : আজ জাতির উদ্দেশ্যে ফের ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! ‘কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে?’- অপেক্ষায় দেশবাসী!
আরজেডি অবশ্য পুরো বিষয়টিকে ষড়যন্ত্রের চোখে দেখছে। দল জানিয়েছে, যারা প্রধানমন্ত্রীর মায়ের প্রতি কটূক্তি করেছে তাদের সঙ্গে আরজেডির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিজেপি অবশ্যই এই ঘটনার মাধ্যমে প্রচারণায় সুবিধা নিতে চেষ্টা করবে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। বিহারের ভোটের আগে এই বিতর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে ভাবাতে বাধ্য করবে।





