একটা সময় নিজে খেতে পেত না সে। দুমুঠো ভাতও জোটেনি, দিনের পর দিন অভুক্ত থকে গেছেন। ঘর বলতে একফালি টিনের চালা, তাও বৃষ্টি পড়লে জল পরে। রাস্তার ধারে দিন কাটাতে হয়েছে কখনো বা ঠাই মিলেছে অনাথ আশ্রমে। তবু চোখে স্বপ্ন দেখে গেছে একটা বাড়ির কিন্তু নিজের জন্য নয়। তাঁর স্বপ্নের সেই বাড়ি হবে ঘরহারাদের জন্য, রাস্তায় থাকা মানুষদের জন্য।
আজ দশ হাজার গৃহহীনের মসিহার নাম মুরুকান এস। রাষ্ট্রপতি ভবনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে ২০১২ সালে পুরস্কার নিয়েছেন তিনি। পুরস্কার বীতে গিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেছিল সে।
নিজের একটা বাড়ির স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। কিন্তু আর পাঁচজনের স্বপ্নের থেকে অনেকখানি আলাদা ছিল মরুকানের স্বপ্ন। রোজগার বলতে একটি অটো চালিয়ে জীবন চালাতো। তখন ঘটে তাঁর চিন্তার পরিবর্তন। সে একদিন দেখতে পায় ফুটপাতের উপর থেকে একটা ছোট ছেলেকে জোর করে অটোতে তুলে নিয়ে যেতে চাইছে কিছু লোক। আসলে ছেলেটাকে দিয়ে ভিক্ষা করানোর জন্য তাঁকে তুলে নিয়ে যেতে চাইছিল কিছু দুষ্কৃতি। ছেলেটিকে বাঁচানোর জন্য মুরুকান অটো নিয়ে তিনি ধাওয়া করেন ওই লোকগুলোর পিছনে। শেষমেশ ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে বাচ্চাটাকে রেখে পালিয়ে যায় গুন্ডারা।
তারপর সে ঠিক করে ওই পথ শিশু এবং গৃহহীনদের জন্য তৈরি করবে বাড়ি। তিল তিল করে জমানো টাকা দিয়ে এভাবেই একদিন তিনি কোচিতে বানিয়ে ফেললেন একটা নন প্রফিট অর্গানাইজেশন, থেরুভোরাম। সম্পূর্ণ নাম, ‘থেরুভোরা প্রবর্তক অ্যাসোসিয়েশন’। ২০০৭ সালে এই অর্গানাইজেশন রেজিস্টারড হওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে অন্তত দশ হাজার মানুষের জীবন। ২০১২ সালে পাওয়া রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের টাকা দিয়েই বানিয়ে ফেললেন একটা ট্রাস্ট, থেরুভোরার নামেই। গভর্নিং কাউন্সিলের ১১ জন সদস্যকে নিয়ে তৈরি হল টিম। রাস্তার সব ধরণের মানুষদের আগ্রই দেওয়ায় হ’ল এই ট্রাস্টের কাজ।





