Trump- modi : শুল্ক আরোপের আগে মোদীকে ‘অত্যন্ত দুর্দান্ত মানুষ’ মন্তব্য করলেন ট্রাম্প! কী ইঙ্গিত দিতে চাইছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

বিশ্ব রাজনীতির পটভূমিতে কখনও কখনও হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া মন্তব্য বা সিদ্ধান্তই নতুন দিক নির্দেশ করে। এমনই একটি মুহূর্ত দেখা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায়। ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক ও বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক মহলেই নয়, সাধারণ পাঠককেও ভাবাচ্ছে। বিশেষত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘অত্যন্ত দুর্দান্ত মানুষ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার ঘটনায় বিষয়টি আরও নজরকাড়া হয়ে উঠেছে।

গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ক্যাবিনেট বৈঠকে একাধিক বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে যেতে পারত। সেই সময় ৭টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার।” ট্রাম্পের কথায়, এমন ধ্বংসযজ্ঞ কেবল বড় আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ। সেই বৈঠকের প্রসঙ্গে ট্রাম্প মোদীকে এক ‘ভেরি টেরিফিক ম্যান’ বা অত্যন্ত প্রশংসনীয় মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই মন্তব্যের কয়েক ঘন্টা পরই মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাচ্ছে। ভারতীয় সময় সকাল ৯:৩০ থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্প বলেন, তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছিলেন, তবে কোনও চুক্তি করার আগেই ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ও বাণিজ্য পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর কথায়, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলা বৈরিতা কখনও কখনও অত্যন্ত গুরুতর হয়ে ওঠে, যা আন্তর্জাতিক বাজার ও শান্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ট্রাম্প বলেন, তিনি একবার পাকিস্তানকে সতর্ক করেছেন পারমাণবিক সংঘাত এড়ানোর জন্য। “আমি বলেছি, যদি চুক্তি না হয় বা খুব উচ্চ হারে শুল্ক বসানো হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এর পরের ৫ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে ভবিষ্যতে নতুন সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে।” তাঁর এই মন্তব্য ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের কূটনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুনঃ Rail Negligence: ‘ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে স্ত্রীর মৃতদেহের পাশে ছয় ঘণ্টা বসে থাকা স্বামী’, নীরবতা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে রেল কর্তৃপক্ষ!

যদিও ট্রাম্প মোদীর সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপে ছিলেন কি না, তা ভারতীয় সূত্রে নিশ্চিত নয়, তবুও তাঁর মন্তব্য ও মোদীর প্রশংসা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর কেড়েছে। একইসাথে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপকে ব্যবসা-বাণিজ্য মহলে বড় প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই পদক্ষেপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যে কতটা প্রভাব ফেলে। ট্রাম্পের মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত দুই দিকেই নতুন আলো ছড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংবাদ হিসেবে উঠে আসতে পারে।

RELATED Articles