Su*icide :“আমরা না থাকলেও ওকে ঘরছাড়া কোরো না”—পোষ্য টোনির অসুখে ভেঙে পড়ে শেষ আর্জি রেখে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্ম*ঘাতী দুই বোন!

কখনও কখনও মানুষের জীবনে এমন কিছু সম্পর্ক তৈরি হয়, যা রক্তের সম্পর্ককেও ছাপিয়ে যায়। নিঃশব্দ সেই বন্ধন বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভিতরে ভিতরে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। উত্তরপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ঘটনা সেই কথাই আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিল। এক পরিবারের নিঃশব্দ যন্ত্রণা, দীর্ঘদিনের দুঃখ আর এক পোষ্যের অসুস্থতা—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে গেল দুই তরুণীর জীবন।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের জালালপুর গ্রামে। বুধবার সকালে আচমকাই পরিবারের সদস্যদের চোখে পড়ে, ঘরের ভিতরে দুই বোন অসুস্থ হয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। প্রথমে কেউ বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। পরে জানা যায়, রাধা সিং (২৪) এবং তাঁর ছোট বোন জিয়া সিং (২২) ফিনাইল খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসক রাধাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিয়ার চিকিৎসা শুরু হলেও শেষরক্ষা হয়নি, হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের দাবি, দুই বোনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও পারিবারিক বিবাদ বা তাৎক্ষণিক ঝগড়া ছিল না। তাঁদের অবসাদের মূল কারণ ছিল প্রিয় পোষ্য কুকুরটি। ‘টোনি’ নামের জার্মান শেফার্ডটি প্রায় এক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিল। ধীরে ধীরে কুকুরটির খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, শরীরও ভেঙে পড়ছিল। টোনির এই অবস্থাই মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল রাধা ও জিয়াকে। তাঁদের মনে ভয় ঢুকে গিয়েছিল—হয়তো আর আগের মতো সুস্থ হবে না প্রিয় সঙ্গী।

ঘটনার দিন বাজার থেকে ফিরে মা গুলাবা দেবী মেয়েদের এমন অবস্থায় দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রশ্ন করতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে দুই বোন ফিনাইল খাওয়ার কথা স্বীকার করেন। জ্ঞান হারানোর আগে মায়ের কাছে তাঁদের শেষ আর্জি ছিল—তাঁদের মৃত্যুর পরেও যেন টোনিকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে না দেওয়া হয় এবং তার চিকিৎসায় কোনও খামতি না রাখা হয়। সেই কথাই যেন আজ পরিবারের কাছে সবচেয়ে ভারী হয়ে রয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh : বাংলাদেশে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডলের গণপিটুনি হ*ত্যা! সাধারণ রোষ নাকি লুকানো অপরাধের প্রেক্ষাপট?

এই পরিবারের জীবনে দুঃখ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা আর্থিক সঙ্কটে ভুগছেন। বাবা ছয় মাস ধরে শয্যাশায়ী, কয়েক মাস আগেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা গিয়েছেন ছোট ছেলে। বড় ছেলে বীর সিংয়ের রোজগারেই সংসার চলে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও পোষ্যের চিকিৎসায় কোনও অবহেলা করা হয়নি বলেই দাবি পরিবারের। পুলিশ জানিয়েছে, দেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে দুই বোনের শেষ অনুরোধ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গল্প গ্রামবাসীদের চোখ আজও ভিজিয়ে দিচ্ছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles