করোনার নিয়মবিধি মেনে ভারতীয় যুবসমাজকে তৈরি করার কারিগর নরেন্দ্রনাথ দত্ত ওরফে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে ভারতবর্ষের সমস্ত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ পালনের নির্দেশ দিলো ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন।
আগামীকাল অর্থাৎ ১২ই জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিবস। দিনটি জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালন করার জন্য দেশের সব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়কে এই নির্দেশ দিয়েছে ইউজিসি। উপাচার্য-অধ্যক্ষদের লেখা এক চিঠিতে কমিশন তাঁদের করোনা বিধি মেনেই স্বামীজির জন্মদিবস উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠান করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশে জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অনলাইন বক্তৃতা, স্বামীজির বাণী নিয়ে ওয়েবিনারের আয়োজন করতে পারে। এছাড়া আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক সভার আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে তারা, বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীজির বাণী ও শিক্ষা প্রচার করতে। একইসঙ্গে এই সব কার্যকলাপ শেয়ার করতে বলা হয়েছে ইউজিসির ওয়েবসাইট ugc.ac.in/uamp-তে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিবসটি জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী ১৯৮৫ সাল থেকেই ১২ জানুয়ারি দেশজুড়ে পালিত হয়ে আসছে জাতীয় যুব দিবস। যুব সমাজকে মানুষ করার মূল কারিগর ছিলেন বিবেকানন্দ। তাইতো স্থবির, জড় সমাজকে ঘা দিয়ে জাগিয়ে তোলার জন্য বলেছিলেন, গীতা পাঠের থেকে ফুটবল খেলা ভাল। যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সীমাহীন ক্ষমতা লুকিয়ে রয়েছে তা উদঘাটন করার কথা বলেছেন তিনি। ব্রিটিশ শাসনে ইতি করে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার জন্যও তরুণদের প্রেরণা দেন তিনি। তিনি বলেন, পচাগলা এই সমাজ শেষ হোক, বেরিয়ে আসুক নতুন ভারত। লাঙল ধরে, চাষার কুটির ভেদ করে, ভুনাওয়ালার উনুনের পাশ থেকে। এই আমাদের উত্তরাধিকারী, ভবিষ্যৎ ভারত।
বিবেকানন্দের দর্শনের প্রতি বিশ্বাস রেখে, তার চিন্তা ধারাই ভাবনায় নিজেদের উজ্জীবিত করে কাল তার প্রতি বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা জানাবে দেশের যুব সম্প্রদায়।





