কিছুদিন আগেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিম্নত বিশ্বশর্মা জানান যে তারা খুব শিগগিরিই নিজেদের রাজ্যে দুই সন্তান নীতি চালু করতে চলেছেন। এবার অসমের পথে হাঁটল উত্তরপ্রদেশও। সেই রাজ্যেও এমন নীতি চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আগামীকাল রবিবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলের প্রথম খসড়া প্রকাশ করতে চলেছে উত্তরপ্রদেশ। তবে জানা গিয়েছে, এখনই এই বিল রাজ্য সরকারের কাছে পেশ করা হবে না। আগামী ১০ ইন এই বিল সম্পর্কে জনমত নেওয়া হবে। এরপর আগামী ১৯শে জুলাই এই বিল রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন- ‘দিলীপদা মনের আনন্দে অনেক কিছুই বলে দেন’, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি দিলীপকে ঠুকলেন বাবুল
নতুন এই আইন চালু হলে এ দম্পতির দুই বা তার কম সন্তান রয়েছে, তারা নানান সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এমনকি, এই বিলে এমনও বলা হয়েছে যে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে, সরকারি চাকরিও পাওয়া যাবে না।
এই বিলে আরও বলা হয়েছে যে, দারিদ্রসীমার নীচে থাকা কোনও দম্পতি যদি একটি সন্তানই নেন এবং এরপর তিনি বন্ধ্যাত্বকরণের অপারেশন করিয়ে নেন, তাহলে সরকারের কাছ থেকে সেই পরিবারের স্ত্রী টাকা পাবেন। এক্ষেত্রে, যদি সেই মহিলার পুত্রসন্তান থাকে, তাহলে এককালীন ৮০ হাজার টাকা ও যদি কন্যাসন্তান থাকে, তাহলে তিনি পাবেন এককালীন এক লক্ষ টাকা।
আসলে, উত্তরপ্রদেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে জনসংখ্যা যা সরকারের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী বছর সে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এর আগেই এমন একটি পদক্ষেপ নিতে চাইছে সরকার। এই বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, “অশিক্ষা আর দারিদ্র জনবিস্ফোরণের প্রধান ফ্যাক্টর। কোনও কোনও সম্প্রদায়ের মধ্যে এবিষয়ে সচেতনতা কম। আর তাই সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলা একান্তই প্রয়োজন”।
আরও পড়ুন- মুকুল রায়কে পিএসির চেয়ারম্যান করায় চূড়ান্ত অসন্তোষ গেরুয়া শিবিরে, রাজ্যপালের কাছে নালিশ
উল্লেখ্য, সরকারি এক মুখপাত্রের হিসেবে উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে প্রজননের হার ২.৭ শতাংশ। কিন্তু তা হওয়া উচিত ২.১ শতাংশের কম। আরও নানান পরিসংখ্যান সামনে রেখে তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করে তবেই এমন পদক্ষেপের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের তরফে।





