গত ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার পর দেশজুড়ে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। নৃশংস এই ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬ জন নিরীহ ভারতীয়। কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে সাধারণ নাগরিকদের উপর এমন বর্বর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল গোটা দেশ। তবে কেবল ভারতেই নয়, এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্ব দিয়ে এবার কড়া বার্তা দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-কে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে TRF-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (FTO) এবং বিশেষভাবে মনোনীত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী (SDGT)-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছে এই সংগঠন এবং একাধিকবার ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে TRF-এর বিরুদ্ধে।
মার্কিন বিদেশ দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, TRF আসলে লস্কর-ই-তইয়বার (Lashkar-e-Taiba)-র ছায়া সংগঠন। এই লস্করই ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত ছিল। আমেরিকার দাবি, TRF লস্করের নাম না ব্যবহার করে ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। পহেলগাঁও হামলাকেই তারা মুম্বইয়ের পর সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে আমেরিকা কেবল TRF-কে নয়, পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাঠগড়ায় তুলেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
শুক্রবার ভারত সরকার TRF–কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে স্বাগত জানায়। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার একটি শক্তিশালী প্রমাণ।” তিনি মার্কো রুবিও এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—“সন্ত্রাসবাদের জন্য কোনো সহনশীলতা নয়।”
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : বঙ্গ সফরের আগে তৃণমূলের ‘অপশাসন’ তুলে সরব মোদি, পাল্টা পাঁচ প্রশ্ন ছুঁড়ল তৃণমূল!
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে TRF-এর আর্থিক লেনদেন, বিদেশি সাহায্য ও অস্ত্র সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকা যে বার্তা দিল, তা নিঃসন্দেহে কূটনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐক্যের দৃষ্টান্ত বলেই দেখছে দিল্লি।





