“মানুষের মত বাঁচার অধিকার আছে করোনা ভাইরাসেরও”, বললেন মুখ্যমন্ত্রী!

দিনদিন বেড়েই চলেছে করোনার প্রকোপ। এর মধ্যে নানান বিজেপি নেতাদের করোনা নিয়ে নানান মন্তব্যও একই তালে বাড়ছে। কিছুদিন আগেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ঊষা রায় বলেন, মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই, চারদিন ধরে যজ্ঞ চিকিৎসা করলেই করোনা ভাইরাস পালাবে। এবার আরও দ্বিগুন বাড়িয়ে করোনা নিয়ে এক মন্তব্য করলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত।

"মানুষের মত বাঁচার অধিকার আছে করোনা ভাইরাসেরও", বললেন মুখ্যমন্ত্রী!

করোনা ভাইরাসের প্রতি রীতিমতো সহমর্মিতা দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “করোনাও তো মানুষের মতো জীব, ওদেরও তো বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে”। রাওয়াতের এই দার্শনিক মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড়। চারিদিকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ হাসাহাসিও করছেন এই মন্তব্যকে নিয়ে।

আরও পড়ুন- ‘চীনপন্থি’ ওলি পরাজিত, এবার নেপালে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে পারেন ‘ভারতের বন্ধু’ শের বাহাদুর দেউবা

এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যদি দেখা যায়, তাহলে বলতে হবে করোনা ভাইরাসও আমাদের মতোই জীবন্ত। তাদেরও আমাদের মতো বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তবে আমরা মানুষরা তো নিজেদের সবচেয়ে বুদ্ধিমান বলে মনে করি। সেই কারণে এদের নির্মূল করতে চাইছি। তাই করোনাভাইরাসও নিজেকে ক্রমাগত পরিবর্তন করে চলেছে”।

তবে প্রথমের দিকে করোনার বাঁচার অধিকার নিয়ে সরব হলেও পরে সামলে নিয়েছেন রাওয়াত। বলেন, “মানুষকে বাঁচার জন্য অবশ্য করোনাকে নির্মূল করতে হবেই”। মানুষের উপর যখন করোনা নামক আণুবীক্ষণিক পরজীবীটির সংকট ঘনিয়ে এসেছে, সেই সময় দাঁড়িয়ে করোনার প্রতি বিজেপি নেতার এই ‘দার্শনিক’ দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশিতভাবেই অপছন্দের কারণ হয়েছে নেটদুনিয়ায়। রাওয়াতকে নিয়ে শুরু হয়েছে।  হাসাহাসি। কারোর মতে, “রাওয়াতের মতো নেতাদের দেখলে বোঝা যায়, কেন স্বল্পবিদ্যাকে ভয়ংকর বলা হয়”। কেউ আবার রসিকতা করে বলছেন, ”তাহলে কি এবার করোনাকে সেন্ট্রাল ভিস্তায় রাখা হবে”?

আরও পড়ুন- সাদা রঙের কোবরা সাপ স্মার্টলি পোজ দিচ্ছে ক্যামেরার সামনে! তুমুল ভাইরাল ভিডিও

প্রসঙ্গত, করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে গোটা দেশ সন্ত্রস্ত। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এই মারণ ভাইরাসে। প্রাণ যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। এই করোনা বাড়বাড়ন্তের জন্য অনেকাংশেই দায়ী হরিদ্বারের কুম্ভমেলা। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী কুম্ভস্নান সেরেছেন। কুম্ভমেলাকে করোনার ‘সুপার স্প্রেডার’ বলে দাগা হয়েছে। তবে সেই সময় উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না রাওয়াত।

RELATED Articles