শ্রমিক ট্রেনে ফিরতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে মানুষ, নেই কোনো খাবার বা জল

করোনার জেরে মানুষের জীবন অষ্টাগত। ২৫শে মার্চ দেশজুড়ে হঠাৎই লকডাউনের জেরে বাড়ি ফিরতে পারেন নি অনেকেই। এবার তৃতীয় দফার লকডাউনে ভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া মানুষদের ফিরে আনতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। লকডাউনের মাঝে দেশজুড়ে চালুও হয়েছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। এবার এই শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন যাত্রীরা। তাতে নেই কোনো জল বা খাবারের ব্যবস্থা।

গত মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে পরিযায়ী শ্রমিক ও চিকিত্সা খাতে আটকে পড়া রাজ্যবাসীকে নিয়ে যাত্রা আরম্ভ করে শ্রমিক ট্রেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ট্রেনটি দুর্গাপুর স্টেশনে ঢোকে এবং খানিকক্ষণ দাঁড়ায় ইঞ্জিন পাল্টানোর জন্য। স্টেশনে ট্রেন থামতেই রেলকর্মী ও আধিকারিকদের ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, ট্রেনে পর্যাপ্ত খাবার বা জল কোনোটাই নেই। তৃষ্ণায় গলা শুকোচ্ছে, বাচ্চাদের নিয়ে এতটা রাস্তা ফিরতেও চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীদের কারোর বাড়ি হাবড়া, কারোর ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া আবার হাওড়ায়।কিন্তু যাত্রা পথে জল না পাওয়ার দরুন অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।এরপর তাদের দুর্গাপুর স্টেশনে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

একই দৃশ্য ধরা পড়ল আসানসোল স্টেশনেও। সেখানেও একই কারণে যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় রেল ও জেলা প্রশাসনকে। তাঁদের অভিযোগ, তারা পুরুলিয়ায় নামতে চেয়েছিল কিন্তু তাঁদের নামতে দেওয়া হয়নি।এরপর আসানসোল রেল ডিভিশনের সিকিউরিটি কমিশনার চন্দ্রমোহন মিশ্র তাঁদের সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন।

২৪ জন যাত্রীকে ওই ট্রেন থেকে নামিয়ে অন্যভাবে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের জন্য আসানসোল স্টেশনে জল ও কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে রেলের এমন চরম মিসম্যানেজমেন্টের জন্য যাত্রীরা রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

আরও অন্যান্য খবর