বয়স মাত্র ২৪। সদ্য পিতৃত্বের স্বাদ পেয়েছিলেন। ডিসেম্বরেই ফের তিনমাসের কন্যার কাছে ফেরার কথা ছিল সুবোধের। কিন্তু তার আগেই সব শেষ। দীপাবলিতে অন্ধকার হয়ে গেল তেহট্টের রঘুনাথপুর।
পাকিস্তানের ছোঁড়া গুলিতে শহিদ হলেন সুবোধ ঘোষ (Subodh Ghosh)। আর এখন ওই তরুন বাঙালি জওয়ানের দেহ ফেরার প্রতীক্ষায় তাঁর পরিজন এবং প্রতিবেশীরা। ইতিমধ্যেই শহিদের বাড়িতে পৌঁছেছেন একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সমালোচনায় সরব হয়েছে প্রত্যেকেই।
শনিবার সুবোধ ঘোষের বাড়িতে যান বিধায়ক গৌরীশংকর দত্ত। শহিদের পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন বিধায়ক। রাজ্য সরকার সবসময় শহিদ পরিবারের পাশে আছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে, ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় পাকিস্তানের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি (Adhir Ranjan Chowdhury)।
আজ টুইট করে শহিদ সুবোধ ঘোষের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)। তবে শুক্রবার সুবোধ শহিদ হওয়ার এতদিন পর কেনও তিনি টুইট করলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান, তা নিয়ে চলছে বিস্তর গুঞ্জন।
আজ অর্থাৎ রবিবার সকালে একটি টুইটে শহিদ সুবোধ ঘোষের বীরত্বকে কুর্নিশ জানান তিনি। একই সঙ্গে ওই টুইটে ট্যাগ করেন বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (Mamata Banerjee)।
জানা গেছে ছোট থেকে পড়াশোনায় ভালই ছিলেন সুবোধ। নিজের যোগ্যতায় বেশ কম বয়সেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে (Indian Army) চাকরি পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সুবোধের পরিবার সূত্রে খবর, গত চার বছর ধরেই সেনাবাহিনীতে ছিলেন। গত বছর বিয়ে করেন। তিনমাসের কন্যাসন্তানও রয়েছে তাঁর। জুলাই মাসে শেষবার মাত্র ৪০ দিনের ছুটিতে বাড়িতে ফিরেছিলেন সুবোধ ঘোষ। কথা দিয়ে গিয়েছিলেন ডিসেম্বরে আসবেন তিনি। দেখবেন সন্তানের মুখ। কথা রাখতে পারলেন না বাঙালি জওয়ান। বৃহস্পতিবার দুপুরে শেষবারের মতো ছেলের সঙ্গে কথা হয় মা বাসন্তীর। তার পরেরদিনই মেলে দুঃসংবাদ। সুবোধের মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েছেন তাঁর কাছের বন্ধুরাও।





