এই বছরে সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বাংলা। মে মাসে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি সহ কয়েকটি জেলা। কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল রাজ্যজুড়েই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথা রেখে তড়িঘড়ি হেলিকপ্টারে চেপে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) স্বয়ং নিজে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চাক্ষুস করে যান। ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার কোটির প্যাকেজও ঘোষণা করা হয় কেন্দ্রের তরফে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অভিযোগ করে জানায় ওই পরিমাণ অর্থ সাহায্যে ক্ষয়ক্ষতির সামান্য অংশও মেরামত করা যাবে না। নবান্নের হিসেবে রাজ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেন্দ্রের সাহায্যের বহুগুণ।
আর এবার আমফানের (Amphan) ক্ষতিপূরণ বাবদ ফের রাজ্যকে সাহায্যের হাত বাড়ালো কেন্দ্র। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র (Amit Shah) নেতৃত্বে এক উচ্চস্তরীয় বৈঠক শেষে দুর্যোগ মোকাবিলায় মোট ৬টি রাজ্যকে সাহায্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। এই ৬টি রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক সাহায্য পাচ্ছে বাংলাই।
এরই মধ্যে শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকদের বৈঠকে বাংলাকে মোটা অঙ্কের সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ধাক্কায় আমফানের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ বাংলা পাচ্ছে ২ হাজার ৭০৭ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। সাহায্য পাচ্ছে ওড়িশাও। পাশের রাজ্যকে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। এছাড়া সাইক্লোন নিসর্গের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত মহারাষ্ট্রকে প্রায় ২৬৮ কোটি, বন্যা মোকাবিলায় কর্ণাটককে প্রায় ৫৭৭ কোটি, মধ্যপ্রদেশকে প্রায় ৬১১ কোটি এবং সিকিমকে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট ৬টি রাজ্য কেন্দ্রের থেকে সাহায্য পাচ্ছে মোট ৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকার।





