ধীরে ধীরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলে ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছে দেশ।গত কয়েক মাসে করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ গোটা দেশকে কাবু করে দিয়েছে। এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয় সারা দেশ। নিত্যদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে, মৃত্যু মিছিল থামবার নামই নিচ্ছিল না যেন।
তবে এবার তৃতীয় ঢেউ আসার আগেই বেশি করে টিকাকরণের উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। দ্বিতীয় ঢেউয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা করতে হবে বলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞ মহলের। এরই মধ্যে সামনে এল এক সমীক্ষার রিপোর্টে। এই রিপোর্টে রয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে কোন রাজ্য কেমন কাজ করেছে সেই তথ্য।
আরও পড়ুন- রাস্তায় দেখা নেই বেসরকারি বাসের, বাস চালানোর অনুমতি মিললেও সেই একই ভোগান্তির মুখে নিত্যযাত্রীরা
জানা গিয়েছে, LocalCircles নামের এক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে এক সমীক্ষা চালানো হয়। সেই রিপোর্ট সামনে আসে গত মঙ্গলবার। দেশের ১৭টি বড় রাজ্যের বাসিন্দাদের উপর চালানো হয় এই সমীক্ষা। তাদের প্রশ্ন করা হয় যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় তাদের নিজেদের রাজ্য কেমন কাজ করেছে। এই সমীক্ষার ফলাফলের তালিকায় সবচেয়ে নীচের দিকে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে এই তালিকার শীর্ষেই রয়েছে তামিলনাড়ু। সে রাজ্যের ৫৯ শতাংশ মানুষই মনে করেন, রাজ্য সরকার ভালো পদক্ষেপ করেছে করোনা মোকাবিলায়। এরপরই রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। সেখানে ৫৪ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, তাঁদের রাজ্য সরকার ভালো কাজ করেছে। তিন ও চার নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। এরপরই স্থান গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশার।
এই সমীক্ষা অনুযায়ী, খারাপ পারফরম্যান্সের তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যের মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সরকার ভালো কাজ করেছে। এই সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের মতোই তালিকার নীচের দিকে রয়েছে বিহার ও দিল্লি। জানা গিয়েছে, মোট ৩৮৩ টি জেলায় সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- করোনায় মৃতদের পরিবার পাবে আর্থিক সাহায্য, কেন্দ্র সরকারকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
প্রসঙ্গত, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে করোনার কোনও বিধিনিষেধ না মেনেই জমায়েত করা হয়। জায়গায় জায়গায় হয় সভা, মিছিল। এর জেরেই সংক্রমণ আরও ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ নানান মহলে। শুধু তাই-ই নয়, রাজ্যে আট দফায় ভোট করানো নিয়েও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয় নিয়ে সমালোচনার মুখে পরতে হয় কমিশনকে।





