RG KAR : দেবাশিস হালদারের পোস্টিং ঘিরে বিতর্কের উত্তাপ, কাউন্সেলিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ!

চিকিৎসকদের জীবন যাত্রা ও কর্ম পরিবেশ সঠিক না হলে রোগীদের সেবা প্রভাবিত হয়—এই সত্য যে কারও অজানা নয়। কর্মক্ষেত্রের স্থিরতা ও স্বচ্ছতা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের পোস্টিং, বদলি ও কাজের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন উঠাটা খুব স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসকের ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে আলাদা আচরণ দেখা যায়, তখন সেটা সাধারণ মানুষের নজর কেড়ে নেয়।

বিশেষ করে জুনিয়র চিকিৎসকদের পোস্টিং নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরণের সমস্যা ও অস্বস্তির কথা শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। কোথায় কাজ করবেন, কীভাবে বদলি হবে, সেই নিয়মনীতি কি যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় থেকে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে চিকিৎসক সমাজে। কারও পোস্টিং নিয়ে হঠাৎ করে পরিবর্তন হলে শুধু সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকই নয়, অন্য চিকিৎসকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কারণ এটা ভাবায় যে, নিয়মবিধি কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না।

এবার সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন আরজিকর হাসপাতালের সিনিয়র রেসিডেন্ট দেবাশিস হালদার। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি অনেকের কাছে পরিচিত। সম্প্রতি প্রকাশিত মেধাতালিকা বা মেরিট লিস্টে দেবাশিসের পোস্টিং নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ৭৭৮ জনের কাউন্সেলিংয়ের মধ্যে একমাত্র তার পোস্টিং বদলে যাওয়ার ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দেবাশিসের নিজের অভিযোগ, যেখান থেকে তিনি পোস্টিং চান, সেখানে তার নাম থাকলেও মেধাতালিকায় সেই হাসপাতালের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই হাসপাতালে আসলে কোনও শূন্যপদ ছিল না।

স্বাস্থ্য দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, সিনিয়র রেসিডেন্টদের গ্রামীণ এলাকায় পোস্টিং দেওয়া হয় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে। যেখানে চিকিৎসকরা নিজের পছন্দের হাসপাতালের নাম দেন, সেটাই মেধাতালিকায় প্রতিফলিত হয়। দেবাশিস হালদারের ক্ষেত্রেও হাওড়ার জেলা হাসপাতালের নাম দেওয়া হয়েছিল এবং সেই নথিও রয়েছে। কিন্তু মেধাতালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল তার পোস্টিং মালদহের গাজোল হাসপাতালে হয়েছে, যেখানে কোনও শূন্যপদ ছিল না। শূন্যপদ তালিকায় মালদহ সিলামপুরের নাম ছিল, গাজোলের নয়।

আরও পড়ুনঃ Supreme Court : শেষ মুহূর্তেও সাহায্য নয়, মোবাইল ক্যামেরা হাতে ‘নির্বিকার’ স্ত্রী! হারানো মামলার পর্দা সরাতে ফের ‘কেস রিওপেন’!

ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম (WBJDF) দাবি করেছে, ৭৭৮ জনের মধ্যে শুধুমাত্র দেবাশিস হালদারের পোস্টিং এভাবে বদলানো হয়েছে, যা অন্যায় ও অসম্মানজনক। এই বিষয় নিয়ে আজ, মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য ভবনে দেবাশিসের পক্ষ থেকে একটি ডেপুটেশন দেওয়া হবে। জুনিয়র ডাক্তাররা এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন এবং স্বাস্থ্য দফতরকে এর ব্যাখ্যা দিতে বলছেন। তারা জানাচ্ছেন, এ ধরনের বৈষম্য গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও ক্ষতিকর এবং এটি ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের মনোবলকে গভীরভাবে আঘাত করবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles