ফের যোগীতেই ভরসা উত্তরপ্রদেশের, ঠিক কোন ম্যাজিকে এল যোগী সরকারের এই ঐতিহাসিক জয়, রইল কারণ

উত্তরপ্রদেশে কার্যত ইতিহাস তৈরি হল। ৩৫ বছরের রীতি ভেঙে পরপর দু’বার একই সরকার ক্ষমতায় এল। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিপুল ভোটে জিতল যোগী সরকার। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বেন যোগী আদিত্যনাথ।

২৭৬টি আসনে উত্তরপ্রদেশে জিতেছে যোগী সরকার। যোগী আদিত্যনাথ নিজেও জিতেছেন বিপুল ভোটে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি পেল ১২২টি আসন। রাজ্যে বিজেপির আসন কমলেও ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে তারা। অন্যদিকে আবার সমাজবাদী পার্টির আসন বেড়েছে।

গতবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে সমাজবাদী পার্টি জিতেছিল মোটে ৪৭টি আসন। তার মধ্যে কংগ্রে পেয়েছিল ৭টি আসন। এবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে হাত শিবির মোটে ২টি আসনে জিতেছে। তথৈবচ অবস্থা মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টিরও। ২০১৭ সালে তারা পেয়েছিল ১৯টি আসন। এবার মোটে একটি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বসপা প্রার্থী।

কিন্তু যোগী সরকারের এই জয়ের নেপথ্যে কী কী ফ্যাক্টর কাজ করল?

উত্তরপ্রদেশের সামাজিক সমীকরণটা বরাবরই বেশ জটিল। কোথাও দলিতদের শক্ত ঘাঁটি তো কোথাও আবার রয়েছে জাঠদের শিকড়। কোথাও উচ্চজাতের ব্রাহ্মণকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা চালাতে হয় তো কোথাও আবার ক্ষত্রিয়দের ভোট টানতে কসরত। এই জটিল সমীকরণটাই জলের মতো সোজা করে ফেলেছে বিজেপি। এই কারণে ভোটের আগে একাধিক দলিত নেতা বেরিয়ে গেলেও গেরুয়া শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে কিন্তু এর কোনও প্রভাব পড়ে নি।

সাইকেলের ঝুলিতে যতটুকু ভোট স্থানান্তরিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ভোট আবার মায়াবতীর ঝুলি থেকে বিজেপিতে এসেছে।কাঠখোট্টা অঙ্কের হিসেব অনুযায়ী, গতবার বহুজন সমাজ পার্টি প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ২২.২৩ শতাং। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২.৭৮ শতাংশে। আবার বিজেপির ভোট শতাংশ ৩৯.৬৭ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১.৯৯ শতাংশ। ইতিহাস গড়ে সমাজবাদী পার্টির ঝুলিতে এসেছে ৩১. ৭৬ শতাংশ ভোট।

উত্তরপ্রদেশে  গোবলয়ের রাজনীতি বেশ স্পষ্ট। এবারও যে রাজ্যে হিন্দুত্বের হাওয়া বইছে, তা বলাই বাহুল্য। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ বিজেপির পালে হাওয়া দিয়েছে। আবার বারাণসীকে ঢেলে নতুনভাবে সাজিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যা হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে বেশ প্রভাব ফেলেছে। আর এর মধ্যে মোদী-যোগী সমীকরণ তো রয়েইছে।

উত্তরপ্রদেশে গলিতে গলিতে গজিয়ে উঠেছে অপরাধীদের আড্ডা। খুন, জখম, রাহাজানি, ধ’র্ষ’ণ নিত্য ঘটনা সে রাজ্যে। যোগীর আমলে সেই অপরাধের সংখ্যা কমেনি বটে, তবে অপরাধীদের সাজা দেওয়ার পরিমাণ বেড়েছিল। পুলিশকে খোলা হাত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাই দ্রুত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল সেখানে। আর যোগীর এই পদক্ষেপে বেজায় খুশি ছিলেন সে রাজ্যের মানুষ।

তার উপর ২০২০ সালে করোনার সময় পরিযায়ী শ্রমিক থেকে চাকরি হারানো, নানান অভিযোগে কেন্দ্র সরকারকে বিদ্ধ করা হয়েছে। সেই প্রভাব পড়েছিল যোগী সরকারের উপরও। এই কারণে রাজ্যবাসীর কথা মাথায় রেখে পরিবারের মাথা পিছু ১০ কেজি চাল বিলি করেন যোগী সরকার। এমন নানান প্রকল্প ছিল যোগী সরকারের যা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলেছে। সমাজের নিম্নস্তরের মানুষরা হাত খুলে ভোট দিয়েছে যোগী সরকারকেই।

তাছাড়া, বিজেপির কৃতিত্ব ছাড়াও যোগী সরকারের এই জয়ের পিছনে রয়েছে মায়াবতী শিবিরের নিষ্ক্রিয়তা। হারার আগেই কার্যত হেরে গিয়েছিলেন তিনিযা সুবিধা করে দিয়েছিল যোগী সরকারকে। আর এর ফলস্বরূপ উত্তরপ্রদেশে দ্বিতীয়বার গদি জিতে নিল যোগী সরকারই।

RELATED Articles