বিশ্ব রাজনীতির ভিন্ন কোণে যে সংঘাত চলছে, তার প্রভাব সরাসরি মানুষের জীবনে পড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক দেশের কূটনীতির গুরুত্ব নতুনভাবে ফুটে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত সমাধানে বিভিন্ন দেশের ভূমিকা একেকটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের শান্তিপ্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার বিশ্বাসযোগ্যতা আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধানে ভারতের ভূমিকার উপর কিয়েভের বিশ্বাস রয়েছে।” এই বার্তায় এক ধরনের কৃতজ্ঞতা এবং বন্ধুত্বের সুর ফুটে ওঠে। জেলেনস্কি আরও উল্লেখ করেছেন, “শান্তি এবং আলোচনার ক্ষেত্রে ভারতের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।”
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, “সমগ্র বিশ্ব এখন স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশায় রয়েছে। এই ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি কূটনীতির শক্তিশালীতা এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে বলেও মন্তব্য করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের স্বাধীনতার দিন উদযাপনের ঠিক পরদিন, ১৬ আগস্ট, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। সেই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইউক্রেনবাসীকে শান্তি ও উন্নতির বার্তা প্রদান করেছিলেন। এর আগেই ১৫ আগস্টে জেলেনস্কি ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতীয়দের শুভেচ্ছা জানান এবং ভারতকে শান্তিপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য প্রশংসা করেন।
আরও পড়ুনঃ Employment Opportunities : শুরু ‘রোজগার মহাকুম্ভ ২০২৫’! তিন দিনের মেগা ইভেন্টে হাজারো যুবকের জন্য সরাসরি চাকরির সুযোগ!
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরাসরি শান্তি আলোচনার পথ এখনও খোলা হয়নি। সম্প্রতি আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠকেও যুদ্ধ সমাধান নিয়ে তেমন ফল পাওয়া যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি সম্ভব, এবং তার ক্ষেত্রে ভারতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির পথকে শক্তিশালী করতে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করছে কিয়েভ।





