বিপজ্জনক ওষুধ! প্যারাসিটামল, সুগার, প্রেসারের ৯৩টি ওষুধ গুণমান পরীক্ষায় ফেল, শিশুদের সিরাপও অযোগ্য!

ওষুধ আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাধারণ জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসা, সব ক্ষেত্রেই সঠিক ওষুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, যে ওষুধ খেয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন, সেটিই যদি গুণমান পরীক্ষায় ফেল করে? চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনে চলা রোগীর স্বাভাবিক কর্তব্য। কিন্তু সেই ওষুধের গুণমান ঠিক আছে কিনা, তা জানার সুযোগ কজনের হয়? সম্প্রতি এই বিষয়েই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশজুড়ে ওষুধের গুণমান পরীক্ষা করতে গিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তা উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO) প্রতি মাসে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে তার গুণমান পরীক্ষা করে। সাধারণ মানুষ এই পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে সচেতন নন, কিন্তু এই পরীক্ষার ফল কখনও কখনও ভয়ঙ্কর সত্য সামনে এনে দেয়। চিকিৎসা জগতে স্বচ্ছতা ও রোগীর নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন কি তাহলে আমরা গুণমানহীন ওষুধ খাচ্ছিলাম?

জানুয়ারি মাসের গুণমান পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে ফেল করেছে ৯৩টি ওষুধ। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মিলিয়ে এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১৪৪-তে। এর মধ্যে রয়েছে বহুল ব্যবহৃত প্যারাসিটামল, প্রেসার ও সুগারের ওষুধ, শিশুদের হাঁচি-কাশির সিরাপ, এমনকি ক্ষতস্থানে ব্যবহৃত মলমও। পশ্চিমবঙ্গ ফার্মার তৈরি লিঙ্গার ল্যাকটেটও এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসকরাও এই রিপোর্ট দেখে আতঙ্কিত। কারণ ওষুধের গুণমান ঠিক না থাকলে তার প্রভাব শুধুমাত্র একজন রোগীর ওপর নয়, গোটা সমাজের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে নকল অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে প্রবেশ করলে তা ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বন্যপ্রাণের বন্ধু মোদি! সিংহশাবককে নিজ হাতে দুধ খাইয়ে বিরল প্রাণী সংরক্ষণে ঐতিহাসিক উদ্যোগ!

এই বিষয়ে চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকারের মত, “এই রিপোর্ট দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে যে বিশ্বাসের সম্পর্ক, তার মাঝেই রয়েছে এই ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। কিন্তু এই রিপোর্ট বলছে, সেসব সংস্থা ঠিকমতো ওষুধ তৈরি করছে না। এতে শুধু রোগী সুস্থ হতে দেরি করছে না, মৃত্যুর হারও বাড়ছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হল, নকল ও নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক শুধু একজন রোগী নয়, গোটা সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”

এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসার পরও প্রশাসনের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে তাদের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা, এমনকি ক্রিমিনাল অফেন্সের মামলা দায়ের করাও প্রয়োজন। কারণ চিকিৎসা জীবনদায়ী, এবং সেখানে কোনওরকম অবহেলার জায়গা নেই। দেশের কোটি কোটি মানুষের সুস্থতার স্বার্থে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles