Explosive Alert: নকশাল বিরোধী অভিযান চলাকালীন মাওবাদীদের IED ফাঁদে প্রাণ হারালেন দীনেশ নাগ,উদ্ধার অস্ত্র ও নগদ!

ছত্তিশগড় আবারও কেঁপে উঠল মাওবাদী হামলায়। বহু বছর ধরেই এ রাজ্যের জঙ্গলাঞ্চল জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। প্রায়শই ঘটে বিস্ফোরণ, বন্দুকযুদ্ধ কিংবা হামলার ঘটনা। সম্প্রতি ফের একই ধরণের মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বিজাপুর জেলা। এই ঘটনায় একজন জওয়ান শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে ইন্দ্রাবতী জাতীয় উদ্যান এলাকায় নকশাল বিরোধী অভিযানে নেমেছিল রাজ্য পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (DRG)-এর একটি বিশেষ দল। অভিযানের মাঝেই মাওবাদীদের পুঁতে রাখা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) বিস্ফোরিত হয়। এতে ডিআরজি জওয়ান দীনেশ নাগ শহিদ হন এবং আরও তিনজন জওয়ান গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক।

শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগেও গত সপ্তাহে একই রকম বিস্ফোরণে রক্তাক্ত হয়েছিল বিজাপুর। তখনও নকশাল বিরোধী অভিযানে নেমেছিল ডিআরজি ও এসটিএফ-এর একটি যৌথ বাহিনী। ভৈরামগড় থানার সীমানার মধ্যে ঘটে ওই বিস্ফোরণ। ডিআরজির সাব-ইন্সপেক্টর প্রকাশ চাট্টি অসাবধানতাবশত আইইডির সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। তাঁর ডান পায়ে আঘাত লাগে, পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, আলাদা অভিযানে বিজাপুরের তারেম থানা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার করেছে মাওবাদীদের পুঁতে রাখা প্রায় ১০ কেজি আইইডি। একইসঙ্গে গড়িয়াবন্দ জেলায় মাওবাদী আস্তানায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও নগদ টাকা। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো হয় এই অভিযান। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চারটি বিজিএল রাউন্ড, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ইনসাস রাইফেলের একাধিক রাউন্ড, একটি এসএলআর ম্যাগাজিন, ১৫টি জেলটিন রড, ৫০টি ডেটোনেটর এবং নগদ প্রায় ১৬.৫০ লক্ষ টাকা।

আরও পড়ুনঃ RG KAR case: আরজি কর ঘটনার মূর্তি তৈরি হয়েছিল বিনা পয়সায়, তবু হিসাবের খাতায় ৫১ হাজার টাকার হিসাব —জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন ঘিরে সন্দেহ!

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে পরপর আইইডি বিস্ফোরণ ও অস্ত্র উদ্ধার নতুন করে চিন্তায়ফেলেছে ছত্তিশগড় প্রশাসনকে। জঙ্গল ঘেরা বিজাপুর ও আশপাশের এলাকায় মাওবাদীদের নড়াচড়া ফের সক্রিয় হয়েছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাদের দমন করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের মতে, নকশাল বিরোধী অভিযান এখন আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শহিদ জওয়ানের আত্মবলিদান অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তবে মাও আতঙ্ক কাটাতে আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেই মনে করা হচ্ছে।

RELATED Articles