আজ ভোরে এসএসসি অভিযানের আগে চুঁচুড়া থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাসের বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে অসুস্থ মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তান উপস্থিত ছিলেন। সঞ্জয় বিশ্বাস, সুমনের ভাই অভিযোগ করেন, “সকালবেলা পুলিশ দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে জোর করে ঢুকে পড়ে। খাটের নীচে, আলমারিতে সমস্ত জিনিস খুঁজেছে। যেন চোর ধরতে এসেছে। অথচ ভাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন।”
পুলিশের দাবি, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপে দেখা গেছে, এসএসসি অভিযানের আগে গণ্ডগোল ও অশান্তি ছড়ানোর ছক কষা হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশের ডিসি অনিশ সরকার সাংবাদিক বৈঠকে এই ক্লিপটি প্রকাশ করেন। যদিও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে, পুলিশ আশঙ্কা করছে হিংসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুমন বিশ্বাস, বেথুয়াডহরী মেজপোতা হাইস্কুলের জীবন বিজ্ঞানের সহ-শিক্ষক এবং যোগ্য শিক্ষক আন্দোলনের আহ্বায়ক। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, প্রকাশিত অডিও ক্লিপটি তাঁদের নয় এবং কার তা খুঁজে বের করা উচিত। পাশাপাশি তিনি গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেই আশঙ্কাই আজ বাস্তব হয়ে ওঠে, যখন তাঁকে আদি সপ্তগ্রাম স্টেশন থেকে আটক করে বিধাননগর পুলিশ।
সুমনের বাড়িতে ভোরবেলা তল্লাশি চালানো হয়, তবে তাঁকে উপস্থিত না পাওয়ায় পুলিশ প্রথমে খালি হাতে ফিরে যায়। পরে স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাঁকে আটক করে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষিকারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেওয়া উচিত নয়। যাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, তাদের ইতিমধ্যেই পুলিশ আটক করেছে।”
আরও পড়ুনঃ Explosive Alert: নকশাল বিরোধী অভিযান চলাকালীন মাওবাদীদের IED ফাঁদে প্রাণ হারালেন দীনেশ নাগ,উদ্ধার অস্ত্র ও নগদ!
আজ এসএসসি অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষকরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশি হানা ও গ্রেফতারি পুরো পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। কর্মসূচির আগে এই ঘটনা শিক্ষকদের মনোবল ও আন্দোলনের মঞ্চকে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও সামাজিক মিডিয়ার নজরও এই ঘটনার দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।





