“যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা…” বিজেপির ভবানীপুর প্রচারের মাঝেই তৃণমূলের স্লোগান ঘিরে বিতর্ক, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ“এখনও মমতার কথা শুনছেন?”

শনিবার বিকেলে ভবানীপুরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ফের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। জনসংযোগ কর্মসূচির মাঝেই মাইকিংকে ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক, আর সেই ঘটনাই পরবর্তীতে রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করে তোলে। একদিকে বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, সব মিলিয়ে ভবানীপুরের ভোটযুদ্ধ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রচারের সময় শুভেন্দু অধিকারী হেঁটে হেঁটে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই মাইকে বাজতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী গান “যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা…”। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, অনুমতি নেওয়া কর্মসূচির মধ্যে এইভাবে তৃণমূলের গান বাজানো নিয়মবিরুদ্ধ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি সরাসরি কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনছে এবং প্রচারের ক্ষেত্রে একপাক্ষিক আচরণ করছে।

এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের উদ্দেশে তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তাকে কালীঘাটের দিকে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি, অথচ নিয়ম মেনে চলার পরও তার কর্মসূচিতে বাধা এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গোটা রাস্তাজুড়ে তৃণমূলের মাইকিং চললেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ জানাবেন এবং রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দেওয়া হবে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, তারা ভবানীপুরে হার নিশ্চিত বুঝতে পেরে এমন আচরণ করছে।

আরও পড়ুন: “ঘরে ঘরে লাঠি-বল্লম রাখুন, পাল্টা আক্র*মণে নামুন” ভোট-পরবর্তী হিং*সার আবহে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বিতর্কিত নিদান! 

অন্যদিকে, এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ভোটের পর নির্বাচন কমিশনের অবস্থানও বদলে যাবে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে যেতে পারে। তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, ট্যাঙ্ক বা রাফাল থাকলেও নির্বাচনের ফল বদলানো সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস, যেখানে তিনি দাবি করেন বিরোধীদের “বান্ডিল করে হারানো” হবে। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যৎ ভোট নিয়েও মন্তব্য করে বলেন, নির্দিষ্ট তারিখে রাজনৈতিকভাবে বিরোধীরা প্রত্যাবর্তন টিকিট কেটে ফিরে যাবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল বিরোধীদের মন্তব্যকে রাজনৈতিক নাটক হিসেবে দেখছে। প্রচারের মাঝে মাইকিং বিতর্ক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ, সব মিলিয়ে ভবানীপুরের নির্বাচন যে শেষ মুহূর্তে আরও সংঘর্ষমুখী হয়ে উঠছে, তা বলাই যায়।

RELATED Articles