বিদেশের মাটিতে জয়শঙ্করের কনভয়ে হামলা! খলিস্তানি ষড়’যন্ত্রে বড়সড় চক্রান্ত?

বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা দিনে দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কৌশলের কারণে একাধিক দেশ এখন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতাবস্থা ও বাণিজ্য নীতির কারণে ভারত একাধিক শক্তিধর দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য নির্ধারিত ছিল। বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে ভারতের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তবে সফরের মাঝেই এমন কিছু ঘটে যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে লন্ডনে, যেখানে বিদেশমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে একটি আলোচনাসভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। ঠিক সেই সময় কিছু বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়ে ভারত-বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশের সামনেই ওই ব্যক্তিরা উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করে। তবে মূল ঘটনা ঘটে তখন, যখন জয়শঙ্কর সভা শেষ করে বেরিয়ে আসছিলেন। এক বিক্ষোভকারী আচমকা দৌড়ে গিয়ে তাঁর কনভয়ের সামনে চলে আসেন এবং ভারতের জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলেন।

আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে উষ্ণতার থাবা! কী বলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস?

এই ঘটনার পেছনে খলিস্তানপন্থী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (এসএফজে) -এর হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংগঠনটির নেতা গুরপতবন্ত সিং পন্নুন দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও ব্রিটেনে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দুরাইস্বামীর উপর স্কটল্যান্ডে হামলা হয়েছিল, যা একই সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা সংগঠিত বলে অভিযোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়শঙ্করের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সফরে এমন নিরাপত্তার গাফিলতি হওয়া উদ্বেগজনক।

লন্ডন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। যদিও পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়, তবু এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিকে কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে এ ধরনের আক্রমণ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কতটা সম্ভব হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles