হারের ভয়ে যে কেউ এমনও করতে পারেন, তা কল্পনারও অতীত ছিল সকলের। সিপিএম প্রার্থীর জিত নিশ্চিত দেখে ব্যালটই খেয়ে নিয়েছিলেন হাবড়ার ভুরকুণ্ডার তৃণমূল প্রার্থী। সেই বুথে এবার ভোট বাতিল হল। ফের নির্বাচন হবে হাবড়ার ওই বুথে। ওই বুথ ছাড়াও সিঙ্গুর, হাওড়া, হাবড়ার গুমা এমন বেশ কিছু বুথেও ভোট বাতিল করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই বুথগুলিতে ফের নির্বাচন হবে, আজ, বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তেমনটাই ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। তবে কবে এই বুথগুলিতে ভোট হবে, তা এখনও জানা যায়নি।
কী ঘটেছিল ভোট গণনার দিন?
গত মঙ্গলবার ভোট গণনার দিন হাবড়ার ওই বুথে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। চার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন সিপিএম প্রার্থী। আর তা দেখে হেরে যাওয়ার ভয়ে তড়িঘড়ি চারটি ব্যালট ধরে মুখে পুড়ে নিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মহাদেব মাটি। অভিযোগ, গণনাকেন্দ্রের টেবিলের ওপর পড়ে থাকা চারটি ব্যালট হঠাৎ করে তুলে মুখে পুড়ে নিয়েছিলেন তিনি। আর তারপরই জয় ঘোষণা।
হাবড়ার ভুরকুণ্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩১ নম্বর বুথের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা বাংলা হতবাক হয়ে যায় যে এমনও ঘটতে পারে। এই ঘটনার খানিক পরই ৪৪ ভোটে এগিয়ে যান তৃণমূল প্রার্থী মহাদেব মাটি। আর তাতেই শুরু হয়ে যায় জোর তরজা। যদিও পরেরদিন তিনি দাবী করেছিলেন যে তিনি মোটেই ব্যালট চিবিয়ে খাননি। এসব বিরোধীদের ‘বানানো গল্প’।
কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন?
এই ঘটনা নিয়ে সিপিএমের তরফ থেকে জোর সওয়াল করতে থাকেন। জেলাশাসকের তরফে রিপোর্ট দেওয়া হয়। তাতে ঘটনার বিবরণ দেওয়া থাকে। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই শুরু হয় বিতর্ক। আর এর জেরে হাবড়ার এই বুথে ভোট বাতিল করল নির্বাচন কমিশন।
শুধু ওই বুথই নয়, অনেক বুথ থেকেই অশান্তি, ব্যালট পেপার নষ্ট করা এমন অনেক অভিযোগ এসেছে। সেই কারণে একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। উত্তর ২৪ পরগনার এই বুথটি বাদ দিয়েও আরও তিনটি জায়গায় নতুন করে নির্বাচনের কথা ঘোষণা করবে কমিশন। একই সঙ্গে হাওড়ার প্রায় ১৫টি বুথে ও সিঙ্গুরের একটি বুথে ভোট বাতিল করা হয়েছে।





