কল্পনা করুন, একজন কুখ্যাত অপরাধী জেলের মধ্যে থেকেও নিজের সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সিনেমার পর্দায় এমন গল্প আমরা অনেকবার দেখেছি। কিন্তু বাস্তব যদি সিনেমার থেকেও বেশি নাটকীয় হয়ে ওঠে? ঠিক এমনই ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে সন্দেশখালি। যেখানে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি থাকা সত্ত্বেও শেখ শাহজাহান নাকি ফোনে হুমকি দিচ্ছেন! প্রশ্ন উঠছে, বন্দি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি বাইরের জগতে এতটা সক্রিয়? কীভাবে তিনি জেলের বাইরে থাকা অনুগামীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন?
শুধুমাত্র সন্দেশখালি বা রাজ্যের মানুষই নয়, গোটা দেশ তাকিয়ে রয়েছে এই ঘটনাপ্রবাহের দিকে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক গাফিলতি নাকি অপরাধজগতের অপরাজেয় শক্তি— ঠিক কী হচ্ছে এখানে? শেখ শাহজাহান কি শুধুমাত্র এক ব্যক্তি নাকি একটা ‘সিস্টেম’, যা ধরা পড়লেও কার্যত অপ্রতিরোধ্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের একটু গভীরে যেতে হবে।
সম্প্রতি ‘শেখ শাহজাহান মার্কেট’-এর কর্মী রবীন মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, গত ১৫ই মার্চ দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাঁকে ফোন করেন শেখ শাহজাহান। অভিযোগ, প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা সেই ফোনালাপে শাহজাহান তাঁকে সরাসরি হুমকি দেন। তিনি নাকি বলেন, “তোদের খুব বাড় বেড়েছে, তোরা মার্কেটের বিরুদ্ধে এবং আমার নামে অনেক অভিযোগ করছিস। আমি খুব শীঘ্রই ছাড়া পাচ্ছি, তারপর তোদের দেখে নেব। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করব, বোম মারব।” এতেই শেষ নয়, রবীনবাবুর দাবি অনুযায়ী, শেখ শাহজাহান আরও বলেন, “আমার মতো হাজার হাজার লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে, তোদের ব্যবস্থা করব।” অর্থাৎ, শুধু তিনিই নন, তাঁর মতো আরও অনেকেই নাকি সন্দেশখালিতে প্রভাব বিস্তার করছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, জেলের মধ্যে বসে থাকা একজন বন্দি কীভাবে ফোন ব্যবহার করছেন? তিনি কি সত্যিই নিজে ফোন করেছিলেন, নাকি তাঁর ঘনিষ্ঠ কেউ এই কাজ করেছে?
আরও পড়ুনঃ এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি অভিনয়! গলায় কাছা, হৃদয়ে শোক—তবু মঞ্চ কাঁপিয়ে শো স্টপার ছিলেন রবি ঘোষ!
রবীন মণ্ডলের দাবি, যে নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল, সেটি ছিল মফিজুল মোল্লার নম্বর। স্থানীয়দের মতে, মফিজুল হলেন শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ। যদিও মফিজুল এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, “ওর কাছে কি কোনও প্রমাণ আছে? আমি কেন শেখ শাহজাহানের সঙ্গে কথা বলতে যাব?” যদিও রবীন মণ্ডল এই অভিযোগ নিয়ে সরাসরি সন্দেশখালি থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন এবং কলকাতায় ইডি অফিসেও গিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ফোনকলের তথ্য যাচাই করা হবে। তবে প্রশ্ন একটাই—জেলের মধ্যে থেকেও কীভাবে এক অপরাধী বাইরের জগতে যোগাযোগ রাখছে?
এই ঘটনা সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি শেখ শাহজাহান সত্যিই জেলের ভিতর থেকে ফোন করে থাকেন, তাহলে কার অনুমতিতে এমনটা সম্ভব হল? আর যদি না করে থাকেন, তাহলে তাঁর অনুগামীরা কি তাঁর নামে ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে? সন্দেশখালির ঘটনার সূত্র ধরে একটা বড় প্রশ্ন উঠে আসছে—এটা কি শুধুই একজন শেখ শাহজাহানের দাপট, নাকি গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতা? এখন দেখার, প্রশাসন কীভাবে এই ঘটনার মোকাবিলা করে এবং সত্যিই কি শেখ শাহজাহান ছাড়া পাওয়ার পর ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে? প্রশ্ন রয়ে গেল।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার