বাংলাদেশের(Bangladesh) শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো রাস্তায় নেমেছে। কখনও এই আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, আবার কখনও রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নতুন মোড় নিচ্ছে, যেখানে সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অভিসন্ধি আরও বেশি করে প্রকাশ পাচ্ছে।
এমনই এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে উপাচার্য শুচিতা শরমিনের বিরুদ্ধে একদল শিক্ষার্থী আন্দোলনে নেমেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সিন্ডিকেটে রাজনৈতিক পক্ষপাতের ভিত্তিতে ছাত্র নিয়োগ করেছেন। এই অভিযোগ ঘিরেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ‘জামাত শিবিরের সদস্য’ বলে দাবি করেন। এই মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মহম্মদ ইমরানকে মারধর করা হয়। ইমরান আগেই সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের বিরোধিতা করে পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তিনি উপাচার্যের পক্ষ নিয়েছিলেন বলে দাবি উঠেছে। এই ঘটনার পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিবৃতি দিয়ে মারধরের নিন্দা জানায়। তারা জানায়, ‘আন্দোলনের অধিকার যেমন সবার আছে, তেমনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও থাকা উচিত। তবে আন্দোলনের নামে কাউকে মারধর করা এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করা উচিত নয়।’
আরও পড়ুনঃ প্রেমিকের প্রতারণার প্রমাণ ভাইরাল! কলেজে পোস্টারে প্রেমিকের গোপন ছবি ফাঁ’স!
এই ঘটনার মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও অশান্ত হয়ে ওঠে, যখন ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে হামলা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে তথাকথিত বিপ্লবী ছাত্রদের নেতৃত্বে ভাঙচুর শুরু হয়, যা দেশজুড়ে হিংসার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউনুস সরকার হিংসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের বদলে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরতে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী, যা বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, ধানমন্ডি ৩২-এর হামলার নেপথ্যে কারা? সরকার কি ইচ্ছে করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে না? ইউনুস সরকার ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে অভিযানে নেমেছে, কিন্তু এতে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের বদলে আওয়ামি লিগ কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিরোধীরা বলছে, সরকারের অবস্থান পক্ষপাতদুষ্ট এবং প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে না। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে এবং দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।





