রাজনীতির আঙিনায় ফের উত্তাল তরজা। একদিকে শাসকের কণ্ঠে কটাক্ষ, অন্যদিকে বিরোধীর সুরে আক্রমণাত্মক চাহনি। আদালতের দরজায় ঠকঠক করে হাজির বিরোধী দলনেতা। উদ্দেশ্য, মহেশতলা যাওয়ার অনুমতি চাওয়া। আর এই নিয়েই সোমবার হাইকোর্ট চত্বরে দেখা গেল চরম টানাপোড়েন। একপক্ষ বলছে, “রাজনৈতিক প্রচার পাওয়ার জন্যই এই সফর”, অন্যপক্ষের দাবি, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই দায়িত্ব”। আদালত শেষমেশ কী বলল?
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, “যেখানেই অশান্তি, সেখানে কেন যাবেন বিরোধী দলনেতা?” আদালতে এসে অনুমতির দরকার কী ছিল, তা নিয়েও ওঠে প্রশ্ন। তাঁর কটাক্ষ, “আদালতকে যেন রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত না করা হয়।” একই সুর রাজ্যের আর এক আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “শুধু প্রচারের আলোয় আসার জন্যই এই নাটক।”
শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী সূর্যনীল দাস আদালতে জানান, আগে থেকেই মহেশতলা সফরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ সুপারের কাছে। রবীন্দ্রনগর থানাতেও জানানো হয়েছে সফরের কথা। তবে ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল) জারি রয়েছে, যা কার্যকর থাকবে সোমবার পর্যন্ত। সেই কারণে আদালতের অনুমতির জন্যই এই আবেদন।
এসব শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের আইনজীবীদের প্রশ্ন করেন, “যদি সোমবারের পর ১৬৩ ধারা উঠে যায়, তাহলে অসুবিধা কোথায়? আদালত যদি অনুমতি দেয়, তাতে রাজ্যের ভয় কী?” এরপরেই উঠে আসে আরও বড় প্রশ্ন— “বিরোধী দলনেতা যদি না যেতে পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?” আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট, বিরোধী কণ্ঠকে আটকাতে চাইলে গণতন্ত্রেই সংকট।
শেষমেশ বিচারপতি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী মহেশতলায় যেতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কড়া শর্ত আরোপ করেছেন আদালত— কোনও র্যালি বা জমায়েত করা যাবে না, বিতর্কিত মন্তব্য থেকেও বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ সফর হবে নিছক ‘পরিদর্শন’, কোনও রাজনৈতিক বার্তা ছাড়াই।
আরও পড়ুনঃ কখনও কাটেননি কেক, ব্যবহার করেননা ফোন! জন্মদিনেই ফাঁস হল বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর কিছু অজ্ঞাত অভ্যাস
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে রবীন্দ্রনগর থানা এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের সামনেই চলে ইটবৃষ্টি, মহিলা পুলিশ কর্মীও আহত হন। সেই ঘটনার পরপরই মহেশতলা ইস্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। শুভেন্দু সেইদিন বিকেলেই ডিজি-র সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সফল হননি। ক্ষোভ উগরে দেন প্রকাশ্যেই। বিধানসভায় বিজেপি মুলতুবি প্রস্তাব আনতে চাইলে তা খারিজ করে স্পিকার। এরপরই বিজেপি বিধায়করা তুলসীগাছ মাথায় নিয়ে বিক্ষোভ দেখান।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!