ফের হোয়াটসঅ্যাপ-কেন্দ্র সংঘাত! গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অভিযোগে আদালতে মোদী সরকার

কিছুদিন আগেই ভারতের আইন মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছিলেন, “ভারত সরকার তার নাগরিকদের সর্বপ্রকার গোপনীয়তা রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ একইসঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার দিকেও নজর রাখাও সরকারের কর্তব্য৷ ডিজিটাল মাধ্যমের জন্য ভারতের প্রস্তাবিত বিধিগুলির কোনওটিই হোয়াটসঅ্যাপের সাধারণ ক্রিয়াকলাপকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করবে না৷ এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরাও এর দ্বারা প্রভাবিত হবেন না৷”

আর এবার সেই জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই, হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি পলিসির বিরুদ্ধে নতুন দাবি তুলে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল কেন্দ্র।

এদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আদালতে এক হলফনামা পেশ করে কেন্দ্রের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ কায়দা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে এই পলিসির অনুমতি নিয়েই ঘুরিয়ে গ্রাহক-বিরোধী কাজকেই উৎসাহ দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

দিল্লি আদালতে প্রথমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গিয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ। আর এবার তাদের বিরুদ্ধে গেল কেন্দ্র। ‌ কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ করা হয়েছে নিজেদের ডিজিটাল ক্ষমতাকে ব্যবহার করে গ্রাহকদের এই পলিসি গ্রহণ করতে বাধ্যই করছে হোয়াটসঅ্যাপ। আদালতের কাছে আর্জি জানিয়ে সরকার বলেছে, এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হোক হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য হোয়াটসঅ্যাপ-কেন্দ্র তরজা এই প্রথম নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর রাশ টানতে কেন্দ্রের তরফে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল।চলতি বছরের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ভারতবর্ষে ডিজিটা‌ল কনটেন্ট সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকা জারি করেছিল ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। সেই নির্দেশিকায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, শীর্ষ স্থানীয় এই সোশ্যাল সাইট গুলিকে একটি কমিটি তৈরি করতে হবে নিয়ম ঠিকমতো মানা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। সেই সঙ্গে কোনও কনটেন্ট যদি অনভিপ্রেত বা আপত্তিকর মনে হয় তাহলে সেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে ওই সংশ্লিষ্ট কমিটি। আর এই জন্য কেন্দ্রের তরফে ধার্য করা হয় তিনটি মাস। তবে শুধুমাত্র এই সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিই নয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্যও একই নির্দেশ পাঠায় কেন্দ্র।

কিন্তু কেন্দ্রের পাঠানো এই নির্দেশকে কার্যত অবহেলা করে উক্ত সংস্থাগুলি। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এই নির্দেশিকা হাতে পাওয়ার পরও কোনও প্রতিক্রিয়াই জানায়নি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো কোনও সংস্থাই।

এরপর ভারতবর্ষে নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ফেসবুক এবং টুইটার কেন্দ্রের দাবি মেনে নেয়। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে হোয়াটসঅ্যাপ। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ তাঁরা।

সেই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়”ভারতীয় নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভারত সরকার”। 

RELATED Articles