‘বাংলা নিয়ে ছবি করেছেন, গুজরাত নিয়ে সিনেমা করবেন তো?’ জবাব দিলেন বিবেক অগ্নিহোত্রী! ‘দেশভাগ মানেই পঞ্জাব নয়, সবচেয়ে বড় বলিদান দিয়েছে বাংলা! শাসকদল ভয় পাচ্ছে এই সিনেমা ভোটে প্রভাব ফেলবে’ বিতর্কে পাল্টা সাফাই পরিচালকের

‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর। শনিবার কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে ট্রেলার লঞ্চ নিয়ে জমে গিয়েছিল বিতর্কের ঝড়। তার আগের দিন এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ছবিকে ঘিরে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন পরিচালক বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রী।

ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন বিবেকের দাবি, দেশভাগের ইতিহাস মানুষ ভুলতে চাইছে। তিনি বলেন, “আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন মনে হত দেশভাগ মানেই পঞ্জাব। অথচ সবচেয়ে বড় বলিদান দিয়েছে বাংলা। কাশ্মীর ফাইলস নিয়ে যেভাবে প্রোপাগান্ডা বলা হচ্ছে, সেভাবে আগামী দিনে যদি মুর্শিদাবাদ বা অন্য কোথাও ঘটে যাওয়া ঘটনাকে নিয়ে ছবি হয়, তাও কি প্রোপাগান্ডা বলা হবে?”

মোদি সমর্থক হওয়ার অভিযোগে পরিচালকের সাফ কথা, “নিজের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করা ভুল নয়। আমি বিজেপিকে সমর্থন করিনি, আমি বলেছি নরেন্দ্র মোদি ভাল প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে এখানকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকে তৃণমূলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, সেটা কি ভুল নয়?”

ছবির মুক্তি আর ভোট ছবির মুক্তি ভোটের আগে হচ্ছে, তাই রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে বিবেকের বক্তব্য, “আমরা চাইলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই রিলিজ করতে পারতাম, যখন ভোটের প্রচার চলছিল। ভারতে প্রায় সারা বছরই কোথাও না কোথাও ভোট থাকে। এখন বিহারে ভোট হচ্ছে, সেখানে তো কেউ কিছু বলছে না।”

বিতর্কের কারণ কী? বিবেকের দাবি, “শাসকদল ভয় পাচ্ছে এই ছবি ভোটে প্রভাব ফেলবে। এক বড় সিনেমা হলে ট্রেলার লঞ্চ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক চাপে তা বাতিল করা হয়েছে।”

গুজরাত নিয়ে ছবি করবেন? এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “গুজরাত নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে। নতুন কিছু বলার নেই। আমি সেই বিষয় নিয়েই ছবি করি, যেগুলো নিয়ে আগে কেউ বানায়নি। ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর জন্য পাঁচ বছর গবেষণা করেছি। শুধু সামারি হিসেবেই আছে ১৮ হাজার পাতার রিসার্চ।”

আরও পড়ুনঃ শক্তি বাড়িয়ে স্থলভাগে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি, আর্দ্রতার কারণে ভোগান্তি বাড়বে কলকাতাবাসীর

শেষে তিনি রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান জানান, “ছবিটা দেখে বাংলার ইতিহাসকে উদযাপন করুন। আর ‘বুচার অফ বেঙ্গল’ সুরাবর্দির নামে যে অ্যাভিনিউ আছে, সেটার নাম বদলে গোপাল মুখোপাধ্যায় অ্যাভিনিউ করা হোক।”

RELATED Articles