স্কুলের নির্দেশে নির্দিষ্ট ভেন্ডার থেকে জুতো কিনতে বাধ্য অভিভাবক! শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!

শিক্ষা (education) জীবনের ভিত্তি। স্কুলে শুধুমাত্র পড়াশোনা নয়, শৃঙ্খলা ও নীতিবোধও শেখানো হয়। তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় অভিভাবকরা ভালো স্কুল বেছে নিতে চান। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু স্কুলের কঠোর ও বিতর্কিত নির্দেশিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষত, খাতা-পেন বা ইউনিফর্ম সংক্রান্ত নিয়মাবলী, যা অনেক সময় মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে অসুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষা ব্যবস্থায় বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগও নতুন নয়। তবে এই বিতর্ক এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে স্কুলের জুতোর বিষয়েও শুরু হয়েছে।

শহর কলকাতার এক নামী স্কুলে সম্প্রতি জুতো নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে অভিভাবকদের একটি মেসেজ পাঠানো হয়, যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, নির্দিষ্ট একটি ব্র্যান্ডের জুতো কিনতেই হবে। নার্সারি থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত ভেলক্রো জুতো, যার দাম ২০৪৭ টাকা। আর ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত অন্য একটি জুতো, যার দাম ২১০০ টাকা। স্কুলের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ব্র্যান্ডের জুতো ছাড়া পিটি ক্লাসে অংশ নেওয়া যাবে না। এই মেসেজ অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশ্নের ঝড় ওঠে।

অভিভাবকদের বক্তব্য, স্কুল কেন তাদের সন্তানের জুতোর ব্র্যান্ড এবং দাম নির্ধারণ করে দেবে? কারও সন্তানকে ৫০০ টাকার জুতো পরালেও যে শৃঙ্খলা বা খেলাধুলার উপর প্রভাব পড়ে না, সেটাই তাদের যুক্তি। এছাড়াও, সপ্তাহে মাত্র একটি দিন পিটি ক্লাস হয়। তাহলে কেন এমন দামি জুতো কিনতে হবে? অনেকেই বলছেন, শিক্ষার পাশাপাশি স্কুলের এ ধরনের সিদ্ধান্ত অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। মধ্যবিত্ত অভিভাবকরা এই ধরনের ব্যয় বহন করতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়েন।

তবে অভিভাবকদের রাগ আরও বেড়ে যায়, যখন তাঁরা জানতে পারেন, নির্দিষ্ট ভেন্ডারের থেকেই এই জুতো কিনতে হবে। স্থানীয় দোকানে অথবা অনলাইনে কেনার কোনও সুযোগ নেই। ফলে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, স্কুল ও ভেন্ডারের মধ্যে গোপন চুক্তি থাকতে পারে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুনঃ মাঘের শেষেই শীত উধাও! আজ ভিজবে দক্ষিণবঙ্গের এই দুই জেলা

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে। অভিভাবকদের বক্তব্য, খাতা, বই থেকে শুরু করে জুতো—সবকিছুই স্কুল থেকে কিনতে হবে, এই নিয়ম একপ্রকার চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষার মতো পবিত্র বিষয় নিয়ে কেন এমন আর্থিক চুক্তি হবে, সেটাই প্রশ্ন। তবে এই বিতর্ক কীভাবে মেটানো হবে, সেটাই এখন দেখার।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর