রাজনীতির আড়ালে বড়সড় প্রতারণা? প্রাক্তন তৃণমূল নেতার ফাঁদে ব্যবসায়ীরা, গ্রেফতার মানস রায়!

রাজ্যে রাজনীতি মানেই দুর্নীতির অভিযোগ, আর্থিক কেলেঙ্কারি, প্রতারণার ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নতুন কিছু নয়, কিন্তু সম্প্রতি একের পর এক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলছে—নেতাদের উপর বিশ্বাস রাখা কি আদৌ সম্ভব? রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অনেকেই আর্থিক লেনদেনকে ঢাল বানিয়ে ফায়দা তুলছেন, অভিযোগ এমনটাই। কারও নামে জমি দখলের অভিযোগ, কারও বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, তো কেউ আবার সাধারণ ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মামলায় জড়াচ্ছেন। এসব ঘটনায় মানুষের আস্থা কি ক্রমেই কমছে?

রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কীভাবে এক শ্রেণির মানুষ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, তার উদাহরণ পাওয়া যায় একাধিক ঘটনায়। ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, গরু পাচার কেলেঙ্কারি—সবই যেন জড়িয়ে রয়েছে রাজনীতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অনেক হেভিওয়েট নেতার নাম জড়িয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে, গ্রেফতারিও হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—শাসকদল বদলালেও কি এই সংস্কৃতি বদলাবে? নাকি দুর্নীতিই রাজনীতির স্থায়ী ছাপ হয়ে থাকবে?

সাম্প্রতিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এক প্রাক্তন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। চেক দিয়ে মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও একাধিকবার সেই চেক বাউন্স হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এই ঘটনা ঘিরে। প্রতারিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। রাজনৈতিক মহল বলছে, এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে।

আরও পড়ুনঃ জাকির হোসেনের অফিসে জিএসটি অভিযান! ব্যবসা নয়, টার্গেট কি বিধায়ক? উঠছে গুরুতর প্রশ্ন!

দুর্গাপুর নগরনিগমের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মানস রায় ও তাঁর ছেলে অভ্রনীল রায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তাঁরা ব্যাঙ্কে প্রতারণামূলক চেক দিয়ে একাধিক ব্যবসায়ীকে ঠকিয়েছেন। দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের এক মোবাইল ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, মানস রায় তাঁর কাছ থেকে দুটি দামি মোবাইল কিনে চেক দেন, কিন্তু সেই চেক বাউন্স করে। একইভাবে দুর্গাপুরের মেনগেট এলাকার এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আট লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি মানস রায়ের কাছে নিজের গাড়ি বিক্রি করেন, কিন্তু সেই চেকও বাউন্স করে।

একটি নয়, পরপর ছয়টি চেক বাউন্স হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা একে একে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এর আগেও মানস রায়ের বিরুদ্ধে অনেকে প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন। দীর্ঘ তদন্তের পর প্রমাণ হাতে আসায় মঙ্গলবার রাতে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তাঁদের তোলা হবে। এখন দেখার, এই ঘটনায় কীভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা ন্যায়বিচার পান কি না।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles