টিএমসিপি সভাপতি তৃণাঙ্কুরকে তীব্র আক্রমণ, পদ থেকে সরানোর দাবী কল্যাণের, তৃণমূলের মধ্যেই চলছে বিবাদ? নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব নাকি?

আর জি কর কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ-আন্দোলন থেমে যায়নি, তা এখনও চলছে। একদিকে যেমন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের তরফে প্রতিবাদ চালানো হচ্ছে, তেমনই আবার এর পাল্টা সংগঠন জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তরফেও আবার ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। এবার এই ইস্যু নিয়েই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে তীব্র আক্রমণ করলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার পরই থ্রেট কালচারের বিষয়টিও সামনে আসে। জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের অভিযোগে এই থ্রেট কালচারের জন্য একাধিক জুনিয়র চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তৃণমূলপন্থী বলেই পরিচিত এই চিকিৎসকরা। জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনে আবার এই সাসপেন্ড হওয়া চিকিৎসকদের অনেকেই রয়েছেন। তারা জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে টাকা তোলা ও হুমকির অভিযোগ তুলেছে। এই নিয়ে এবার সরব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।    

তৃণমূল সাংসদের কথায়, যে ছাত্র পরিষদের সভাপতি ছাত্র পরিষদের পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ায় নি, তাঁর পদে থাকা উচিত নয়। তাঁর দাবী, প্রতিবাদের নামে থ্রেট কালচার করেই নাকি হাসপাতালগুলি থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে শূন্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাম আর অতিবাম মিলে মেডিক্যাল কলেজ চালাতে চাইছে। তাঁরা চায়, তাঁদের কথায় প্রিন্সিপাল চলুক। এটা হতে পারে না। এটাই সবথেকে বড় থ্রেট কালচার”।

কল্যাণের কথায়, “তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতিকে তো দেখলাম না এই ছেলেগুলির পাশে দাঁড়াতে। দলের আজ দেখা উচিত, এঁরা কেন ছাত্র পরিষদের সভাপতি পদে থাকবে যারা ভুক্তভোগী ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়াতে পারে না”

তৃণাঙ্কুরকে বেশ তোপ দেগে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “এতগুলো ছেলে আজকে সাসপেন্ড আর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতির মুখ থেকে কোনও ভাষা, কোনও কথা নেই। আমি ভাবতে পারছি না। কার আশীর্বাদ এর মাথায় আছে, যে এখনও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি থাকে? আমার দেখে খারাপ লাগে। ওরা আমার কাছে আসছে। কুণাল ওঁদের খেয়াল রেখেছে। আমরা লড়াই করছি”।

আরও পড়ুনঃ সর্ষের মধ্যেই ভূত! ট্যাব দুর্নীতিতে এবার ফের গ্রেফতার, এবার পুলিশের জালে প্রাথমিক শিক্ষক

বলে রাখি, অনেকেই এই তৃণাঙ্কলুর ভট্টাচার্যকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করেন। তাহলে তৃণাঙ্কুরকে শানিয়ে কী পরোক্ষভাবে কল্যাণ অভিষেককেই নিশানা করলেন, এমন প্রশ্নও উঠছে। আর তা নিয়ে বেড়েছে চর্চা।

RELATED Articles