রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন টলিউড অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আক্রমণ শুরু হয়েছে। রূপাঞ্জনা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে তাকে কেবল গালিগালাজই নয়, ধর্ষণের মতো হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয়, তার বৃদ্ধা মাকেও এই আক্রমণ থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে রূপাঞ্জনা বিজেপির সমালোচনা করেছেন এবং তাদের আচরণকে নিন্দা করেছেন।
রূপাঞ্জনা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সমর্থকরা তাকে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করছে এবং ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে। তার প্রশ্ন, যে দল নারী সুরক্ষার কথা বলে, তারা কি এমন নিন্দনীয় আচরণ করবে? তিনি বলেন, “আপনারা না বলেছিলেন রাতের অন্ধকারে হামলা করেছেন, অভয়া নিয়ে কথা বলেন? আমি তো একজন নারী, তাহলে আমাকে এভাবে কথা বলার সাহস কেন পাচ্ছেন?” তার এই মন্তব্য বিজেপির সমর্থকদের জন্য কঠোর সমালোচনার কারণ হয়েছে।
এছাড়া, রূপাঞ্জনা আরও বলেন, “যারা এসব কথা বলছেন, তারা নিজেদের বাড়ির মহিলাদের কেমন সম্মান করেন? কি চান, রাজ্যটিকে মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাটের মতো বানিয়ে ফেলুন?” তার এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেছেন যে তারা রাজ্যে ত্রাস সৃষ্টি করতে চায় এবং বিভাজনমূলক রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।
রূপাঞ্জনা মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “মোদী সাহেব কি মণিপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে কিছু বলবেন?” এর আগে, আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীকের জৈনের বাড়িতে ইডি হানা দেওয়ার ঘটনাও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ে তিনি বিজেপিকে সমালোচনা করেছিলেন। তাকে ‘ইংরেজদের দালাল’ এবং ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আক্রমণ করেছিলেন বিজেপি সমর্থকরা, যার বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ট্রোলের বিরুদ্ধে রূপাঞ্জনার প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। তিনি নাম না করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে খোঁচা দিয়ে বলেছেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে ক’জন বিজেপি সমর্থক সেলুলার জেলে অত্যাচারিত হয়েছিল?” তিনি আরও বলেন, “আমি রোজ বিকেলে মুড়ি খাই, ঝাড়গ্রামে আমার বাড়ি আছে, সেখানকার মুড়ির স্বাদও জানি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তার সাধারণ জীবনযাত্রা তুলে ধরে ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।






