পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় সামনে এল এক অদ্ভুত বাজারচিত্র, গেরুয়া আবির প্রায় উধাও, আর সবুজ আবির পড়ে আছে গুদামে। প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন, দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। এই প্রেক্ষাপটে বড়বাজারের পাইকারি বাজার থেকে উঠে আসা তথ্য নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এটা কি শুধুই বাজারের চাহিদা, নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে মানুষের মনের ইঙ্গিত?
বড়বাজারে কী দেখা যাচ্ছে?
কলকাতার বড়বাজার, যা রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কেন্দ্র, সেখান থেকেই এই চিত্র সামনে এসেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এবছর গেরুয়া এবং সবুজ দুই রঙের আবিরই পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু বিক্রির সময় দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। গেরুয়া আবির খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। অনেক দোকানে এখন আর এই রঙের আবির পাওয়াই যাচ্ছে না। অন্যদিকে সবুজ আবিরের স্টক এখনও প্রচুর পরিমাণে পড়ে রয়েছে। ক্রেতার সংখ্যা সেখানে তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব আরও অবাক করার মতো। তাদের দাবি, গেরুয়া আবিরের প্রায় ৯০ শতাংশ স্টক বিক্রি হয়ে গেছে। বিপরীতে, সবুজ আবিরের বিক্রি মাত্র ১০ শতাংশের আশেপাশে। এই বিশাল ব্যবধানকে অনেকেই স্বাভাবিক বাজারচিত্র বলে মনে করছেন না। কারণ সাধারণত উৎসবের বাজারে বিভিন্ন রঙের চাহিদা কিছুটা ওঠানামা করলেও এমন একতরফা চিত্র খুব কমই দেখা যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটা কি শুধুই কাকতালীয়?
জেলার বাজারেও কি একই ছবি?
বড়বাজার থেকে শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আবির সরবরাহ করা হয়। ফলে এখানকার চাহিদা অনেক সময় বৃহত্তর বাজারের প্রতিফলন হিসেবেও ধরা হয়। ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, জেলাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গেরুয়া আবিরের চাহিদা বেশি, আর সবুজ আবির তুলনামূলকভাবে কম বিক্রি হচ্ছে। যদিও এই তথ্যের কোনও সরকারি পরিসংখ্যান নেই, তবুও বাজারের অভিজ্ঞতা থেকেই এই ধারণা তৈরি হয়েছে।
রাজনীতির রঙ কি প্রভাব ফেলছে?
বাংলার রাজনীতিতে রঙের গুরুত্ব নতুন নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্দিষ্ট রঙ জড়িয়ে থাকে, যা মানুষের মনে এক ধরনের প্রতীকী অর্থ বহন করে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, গেরুয়া আবিরের এই বাড়তি চাহিদা হয়তো রাজনৈতিক পছন্দের প্রতিফলন হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের ঠিক আগে এই প্রবণতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এই যুক্তি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
রাজনৈতিক শিবির কী বলছে?
এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া বেশ সংযত। তাদের বক্তব্য, বাজারের বিক্রির সঙ্গে ভোটের ফলাফল সরাসরি যুক্ত করা ঠিক নয়। ভোটের ফল নির্ভর করে বহু বিষয়ের উপর, সংগঠন, প্রার্থী, স্থানীয় ইস্যু এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, আবিরের চাহিদা বাড়া বা কমার পেছনে উৎসবের ট্রেন্ড, ব্যক্তিগত পছন্দ, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবও থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র এই তথ্যের ভিত্তিতে বড় কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
রাজ্যের সাধারণমানুষ কী ভাবছে?
তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, বাজার কখনও কখনও মানুষের মনের ইঙ্গিত দেয়। আবার অন্য অংশ বলছেন, এটা অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা, রঙের পছন্দ আর ভোটের সিদ্ধান্ত এক নয়। চায়ের আড্ডা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সব জায়গাতেই এখন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে বিষয়টি শুধু বাজারে সীমাবদ্ধ নেই, তা জনমতের অংশ হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুনঃ “মা-ও রেহাই পাচ্ছেন না!” রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে রূপাঞ্জনা মিত্রকে যৌ*ণ হেন’স্থার হুমকি! বিজেপি সমর্থকদের তীব্র সমালোচনা অভিনেত্রীর, একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রীকেও!
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো ধোঁয়াশায়। গেরুয়া আবিরের বিপুল বিক্রি নিঃসন্দেহে নজরকাড়া, কিন্তু তা থেকে সরাসরি রাজনৈতিক ফলাফল অনুমান করা কঠিন। বাজার একরকম বলছে, রাজনীতি আরেক রকম। চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ভোট গণনার দিনেই। ততদিন পর্যন্ত এই ‘আবির রাজনীতি’ ঘিরে জল্পনা চলতেই থাকবে। প্রশ্ন একটাই, এই রঙের বাজার কি সত্যিই বদলের আগাম বার্তা দিচ্ছে, নাকি সবটাই কেবল একটি কাকতালীয় ঘটনা?





