বিক্রি করেছিলেন জীবন বীমা, বন্ধক রাখেন স্ত্রীয়ের গয়নাও, জানেন কী কালজয়ী ছবি ‘পথের পাঁচালী’ করতে গিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়!

সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি। তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে নতুন তরঙ্গ সৃষ্টিকারী, বাংলা সিনেমাকে বিশ্বের দরবারে স্থান করে দিতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সারাবিশ্বের চলচ্চিত্র নির্মাতারা আজও তার নাম স্মরণ করে, প্রতিভার সম্মান করে। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে তার অজানা কিছু দিক।‌

সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থায় জুনিয়র ভিজ্যুয়ালাইজার হিসেবে কাজ করতেন প্রথম সময়ে। তাঁর বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজের দিনগুলিতে, তিনি কিছু নতুন উদ্ভাবনী বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিলেন, যা টাইপোগ্রাফি এবং ছবির প্রতি তাঁর আবেগকে তুলে ধরার উপদেষ্টা ছিল। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কাজ করার আগে সত্যজিৎ রায় ১৯৪৭ সালে কলকাতায় প্রথম চলচ্চিত্র ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। এমনকি তিনি সংবাদপত্রের জন্য সিনেমা নিয়ে অনেক নিবন্ধ লিখেছিলেন। চিত্রনাট্যের প্রতি আবেগ থেকে সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) কোনো উপন্যাস বা গল্পের উপর চলচ্চিত্র ঘোষণার পর, তিনি নিজের স্ক্রিপ্ট তৈরি করে, মূল ছবির সঙ্গে তুলনা করতেন।

১৯৫০ সালে ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণের পরিকল্পনা কালে সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) ১০০টির বেশি চলচ্চিত্র দেখেছিলেন। ‘পথের পাঁচালী’ ছিল সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) এবং তাঁর টিমের জন্য অবিস্মরণীয় কাজ। তেমন আর্থিক পরিস্থিতি ছিলনা, তাই আর্থিক দিকের কথা ভেবে কাস্ট এবং শ্যুটিং লোকেশন নির্বাচন করা ছিল অবিশ্বাস্য কাজ। জানা যায়, পথের পাঁচালী ছবি তৈরীর সময় আর্থিক তহবিলের অভাব দেখা দিলে, তিনি তার জীবন বীমা পলিসি পর্যন্ত বিক্রি করে দেন। সেসময় আর্থিক সংকট দূর করতে স্ত্রীয়ের গয়নাও বন্দক রাখতে হয়েছিল। এত প্রতিকূলতা পেরিয়ে ছবির শ্যুটিং সম্পূর্ণ করতে তিন বছর লেগেছিল। সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) তৈরী ‘পথের পাঁচালী’ ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিল। জীবদ্দশায় মোট ৩২টি কাহিনীচিত্র এবং চারটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি। মার্টিন স্কোরসেস থেকে শুরু করে খ্যাতনামা বহু পরিচালক তার সিনেমা দেখে চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহ পেয়েছেন বলে জানা গেছে বহু সময়ে।

সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) সিনেমার দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে ছটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি অতুলনীয়। ‘চিড়িয়াখানা’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘জন অরণ্য’ ও ‘আগন্তুক’ এর জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ১৯৭১ সালে ‘সিকিম’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। ১৯৭৫ সালে এই ডকুমেন্টারিটি ভারত সরকার নিষিদ্ধ করে। তবে ২০১০ সালে ফের এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তাঁর বিস্ময়কর কাজগুলির মধ্যে একটি, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, যা প্রথম রঙিন বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত।

সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধিতে ভূষিত হন। চলচ্চিত্র আইকন চার্লি চ্যাপলিনের পর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব যিনি এই সম্মান লাভ করেছেন। এমনকি ১৯৯২ সালে তিনি অস্কার লাভ করেছেন। আজকের রে ডে (Ray Day)। আজ সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) ১০৩ বছরের জন্মবার্ষিকী। আমাদের তরফ থেকে মানিকবাবুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।

RELATED Articles