মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও বারুদের গন্ধ। টানটান উত্তেজনা, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুম ভাঙছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। কয়েক দিন ধরেই ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত ঘিরে নানা জল্পনা চলছিল। কিন্তু শনিবারের ঘটনার পর সেই জল্পনা যেন বাস্তবের কঠিন রূপ নিল। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভাষা ছেড়ে সরাসরি যুদ্ধের সুরে কথা বললেন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করতে এবং নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করতে বড়সড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন ফৌজ। তাঁর কথায়, “ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে শায়েস্তা করাই আমাদের কাজ।” ইরানি সেনার উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ না করলে “নিশ্চিত মৃত্যু” অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কোনওভাবেই একটি ‘জঙ্গিরাষ্ট্র’-এর হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না।
এই ঘোষণার আগেই ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলার খবর ছড়ায়। ইজরায়েলের আঘাতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। পরিস্থিতির জেরে ইজরায়েলেও জরুরি সতর্কতা জারি হয়েছে, আকাশসীমায় অসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা জানিয়ে প্রশাসন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে। ফলে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি বিদেশ থেকে এই হামলাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ইরানি সেনার দায়িত্ব সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা, শাসকগোষ্ঠীকে নয়। তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসানকে “ঐতিহাসিক ও মানবিক হস্তক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি-র ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
আরও পড়ুনঃ SIR final list : ৭ কোটির বেশি ভোটারের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা, যুক্ত ১.৮২ লক্ষ নতুন নাম—তালিকাতেই রইল লজিকাল বিভ্রান্তির ৬০ লক্ষের ছায়া! তালিকায় নাম না থাকলে এবার কি করতে হবে?
পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে তেহরান ও ইজরায়েলে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য সতর্কতা জারি করেছে দিল্লি। দূতাবাসের পক্ষ থেকে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কত দূর গড়াবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের সরাসরি যুদ্ধঘোষণা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার ইঙ্গিত মিলিয়ে স্পষ্ট—আগামী দিনগুলো বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।





