নির্বাচন মানেই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব। কিন্তু সেই উৎসবের আগে যদি ভোটার তালিকাই সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গেও এখন ঠিক সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেলেও এখনও লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে ভোটারদের এক বড় অংশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
রবিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন। জানানো হয়েছে, রাজ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ভোট হবে ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে। ভোট গণনা হবে ৪ মে। কিন্তু এই ঘোষণার মধ্যেই সামনে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—কারণ এখনও পর্যন্ত রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা তৈরি হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন একটি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় ছিল। অর্থাৎ তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত প্রায় ১৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এখনও কয়েকটি জেলায় এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়নি, যার ফলে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো কিছু জেলায় বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল প্রতিদিন এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই একটি অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তবে তার আগে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমতি আদালতের কাছ থেকে নিতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ না হলে তালিকা প্রকাশ সম্ভব নয়। কমিশনের বক্তব্য, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যেসব ‘বিবেচনাধীন’ নামের নিষ্পত্তি হবে, তারা ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু যদি তার আগেও অনেক নাম ঝুলে থাকে, তাহলে কী হবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটাররা।





