ভাবা যায়! মুখেই খালি প্রতিবাদ, এদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাইয়ে দিয়েছেন বাবা, কাকা, পাড়ার কাকুদের, পুলিশের জালে বিজেপি নেতা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) মমতা সরকারের এক স্বপ্নের প্রকল্প বলা যায়। এই প্রকল্পে বর্তমানে রাজ্যের মহিলারা মাসিক ১০০০ টাকা ও তফশিলি জাতির মহিলারা মাসিক ১২০০ টাকা ভাতা পান। এই প্রকল্প নিয়ে বেশ বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে বিজেপিকে। নানান বিজেপি নেতাই এই নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য সরকারকে। কিন্তু এবার এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) টাকাই বাবা, কাকাদের জালিয়াতি করে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের জালে বিজেপি নেতা।

কী ঘটেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) নিয়ে?

এমন ঘটনা ঘটেছে ময়নার এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ হরকুলি গ্রামে। বিডিওর লগ ইন, পাসওয়ার্ড হ্যাক করে একাধিক পুরুষ ও বৃদ্ধদের দেওয়া হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) টাকা। এই অভিযোগ উঠল ওই গ্রামের বিজেপি বুথ সভাপতি অশোক দাস সহ মহিন দাস ,মন্টু দাস ,সুখেন মাইতি, অমরেশ মাইতি, রাহুল পাহারি-সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অশোক দাস ও আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

প্রশাসন সূত্রে খবর, ময়নার এই হরকুলি গ্রামের এক বাসিন্দা হলেন শ্রীকান্ত দাস। তিনি বেসরকারি সংস্থার হয়ে নানান ব্লকের ডেটা এন্ট্রির কাজ করতেন। ২০২২ সালে হুগলির খানাকুল দু’নম্বর ব্লকে দুয়ারে সরকারের কাজ করেছিলেন তিনি। এর ফলে বিডিওর লগ ইন পাসওয়ার্ড ছিল তাঁর কাছে। সেই লগ ইন পাসওয়ার্ড জালিয়াতি করেই নিজের বাবা যিনি বিজেপির বুথ সভাপতি অশোক দাস ও এলাকার একাধিক পুরুষকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) ভাতা পাইয়ে দিয়েছেন ওই যুবক।

শুধুমাত্র লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই (Lakshmir Bhandar) নয়, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতার টাকাও নিজের বাবা পাড়ার কাকুদের পাইয়ে দেন শ্রীকান্ত দাস নামের ওই যুবক। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিডিও মধুমিতা ঘোষ খানাকুল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ময়না থানার পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্ত শ্রীকান্ত দাসের বাড়ি হানা সেয় খানাকুল থানার পুলিশ।   

সেই সময় বাড়ি ছিলেন না শ্রীকান্ত দাস। সেই কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে ছেলের এই কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বিজেপি বুথ সভাপতি অশোক দাস। এই ঘটনায় অশোক দাস-সহ আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা শাহজাহান আলি বলেন, “এটা তো বিজেপির আইটি সেলের কাজ। ওখানে যারা বসে থাকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা প্রচার করে, তারাই তো হ্যাক করছে। মোবাইল খুললে আরও পাওয়া যাবে”।

তবে জেলা বিজেপি সহ সভাপতি আশিস মণ্ডল বলেন, “আইন আইনের পথে চলবে। কেউ যদি দোষী সাব্যস্ত হয়, দল দেখার তো দরকার নেই। শাস্তি পাবে”।

RELATED Articles