কামদুনি গণধ’র্ষ’ণ ও খু’নের মামলায় ফাঁসির সাজা রদ, আমৃত্যু কারাদণ্ড ২ জনের, বাকিরা বেকসুর খালাস

কামদুনি গণধ’র্ষ’ণ ও খু’নের ঘটনার ১০ বছর কেটে গিয়েছে। এই মামলায় ফাঁসির সাজা রদ করল কলকাতা হাইকোর্ট। এর পরিবর্তে দেওয়া হল আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা। হাইকোর্ট দোষী আনসার আলি মোল্লা এবং সইফুল আলি মোল্লাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। আর বাকি আমিন আলি, ইমানুল হক, ভোলানাথ নস্কর ও আমিনুর ইসলামকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিল আদালত।  

২০১৩ সালের ৭ জুন কলেজ থেকে ফিরছিলেন রাজারহাট ডিরোজিও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বাস থেকে নেমে হাঁটার পথে ওই তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় ৯ দুষ্কৃতী। এক পাঁচিল ঘেরা ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় গণধ’র্ষ’ণ করা হয় তরুণীকে। এরপর তাঁর দেহ ভেড়িতে ফেলে পালায় দুষ্কৃতীরা।

তরুণী বাড়ি না ফেরায় তাঁর খোঁজ শুরু করে পরিবারের লোকজন। বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে এক ভেড়ি অঞ্চলে উদ্ধার হয় তরুণীর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ।

এই ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হয়ম রাজ্যজুড়ে ধিক্কার-আন্দোলন। রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে সিআইডির হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়। তদন্তভার হাতে নিয়ে অভিযুক্ত আট জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ওই মামলায় ২০১৬ সালে ছয়জন অভিযুক্তর সাজা ঘোষণা করেছিল কলকাতা নগর দায়রা আদালত। 

সেই সময় দোষী সাব্যস্ত হয় সইফুল আলি মোল্লা, আনসার আলি মোল্লা, আমিন আলি, ইমানুল হক, ভোলানাথ নস্কর ও আমিনুল ইসলাম। কলকাতা নগর দায়রা আদালত এদের মধ্যে সইফুল, আনসার ও আমিনকে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল। আর বাকি ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাজা মকুবের জন্য দোষীরা কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানায়। সেই মামলা ওঠে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে। গত পাঁচ মাস ধরে শুনানি চলছিল। আজ, শুক্রবার সেই মামলার রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

দোষীদের মধ্যে আনসার আলি মোল্লা ও সইফুল আলি মোল্লাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। আর ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আমিন আলি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ইমানুল হক, ভোলানাথ নস্কর ও আমিনুর ইসলামকে বেকসুর খালাস করে আদালত। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই চারজনের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেই কারণেই এই বেকসুর খালাসের নির্দেশ।

RELATED Articles