দণ্ডিকাণ্ডের জেরে বেশ কোণঠাসা হয়েছিল তৃণমূল। আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক বাঁচানোর জন্য দণ্ডিকাণ্ডের ঘটনার পর ওই তিন আদিবাসী মহিলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কথাবার্তা বলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাও শেষরক্ষা হল না। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন ৩৩টি আদিবাসী পরিবার।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী ব্লকের এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়ই কলোনি এলাকায় ৩৩ টি আদিবাসী পরিবারের ১০০ জন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এদিনের এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তপনের বিজেপি বিধায়ক বুধরাই টুডু, বিজেপি জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী। তাদের উপস্থিতিতেই আদিবাসীরা বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন।
দক্ষিণ দিনাজপুরের এই গ্রামে মূলত আদিবাসী পরিবারই থাকে। আদের অভিযোগ, তারা সরকারি সুবিধা সেভাবে পান না। নানান সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। এই নিয়ে স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীদের অভিযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি। সেই কারণেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া এক আদিবাসীর কথায়, “গত দশ বছর ধরে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য সেরকম কিছু করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়ে গিয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখনও ঘর পায়নি। এছাড়া গ্রামে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। সেই কারণে তারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন”।
এই যোগদান প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক বুধরাই টুডু বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আদিবাসীদের জন্য কিছুই করেনি। শুধু আশ্বাস দিয়ে গিয়েছে। এখন মানুষ সব বুঝতে পারছে। আর তৃণমূলের উপর তারা ভরসা রাখতে পারছে না। তাই আদিবাসীরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করছেন”। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ১০০ জন আদিবাসী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি হল।
অন্যদিকে, আদিবাসীদের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা অস্বীকার করলেন তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি সুভাষ চাকি। তাঁর কথায়, “যারা বিজেপিতে যোগদান করেছেন তারা কেউ তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নয়”।
তাঁর দাবী, “ওই গ্রামের বাসিন্দা ৭০ থেকে ৭৫ জন। তাহলে কি করে ১০০ জন সেখানে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন”? তাঁর বক্তব্য, “যারা বামফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের মধ্যে কয়েকটি পরিবার বিজেপিতে যোগদান করেছে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যে যোগদানের কথা জানানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা”।





