বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের যুদ্ধ ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে শুরু করে দিলেন বিজেপির সর্বেসর্বা তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! শাহ্-নাড্ডা তো বাংলায় ট্রেলর দেখিয়ে গেছেন, আসল খেলা দেখাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে আমজনতা প্রায় সবাই এই কথা জানেন।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। প্রস্তুত হচ্ছে সব পক্ষই। তৈরি প্রধানমন্ত্রীও। এবার তাঁর প্রস্তুতির আগামী ঝলকই আজকের বক্তৃতায় দিয়ে রাখলেন নরেন্দ্র মোদী। নির্বাচনী জনসভার ঢঙে মমতা প্রশাসনকে করলেন সরাসরি আক্রমণ।
কড়া ভাষায় বললেন, শুধুমাত্র ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলার ৭০ লক্ষ কৃষককে কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
তবে শুধু তৃণমূলই নয়। আজকে নিজের বক্তব্যে তিনি বিঁধেছেন কমিউনিস্টদেরও।
নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা কৃষক আন্দোলনের মাঝেই আজ প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির প্রকল্পের পরবর্তী কিস্তির টাকা দেন মোদী।
দেশের ৬ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন। পরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণে সরাসরি মমতা সরকারকে নিশানা করেন মোদী। বলেন, ‘আজ এটাই আফসোস যে পুরো ভারতের কৃষকরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। সব মতাদর্শের সরকার এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কিন্তু একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলাযর ৭০ লাখ কৃষক, আমার কৃষক ভাইবোনেরা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পাচ্ছেন না। তাঁদের ওই টাকা মিলছে না। বাংলার সরকার রাজনৈতিক কারণে নিজেদের রাজ্যের কৃষকদের (বঞ্চিত করে রেখেছেন)। ভারত সরকারের থেকে পয়সা যাবে। রাজ্য সরকারকেও এক পয়সাও দিতে হবে না। তাও ওঁরা (কৃষকরা) টাকা পাচ্ছেন না।’
প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য লাখ লাখ কৃষক অনলাইনে আবেদন করেছেন। কিন্তু তাতে ছাড়পত্র দিচ্ছে না বাংলা। তাতে তিনি রীতিমতো ‘হতবাক’ এবং ‘দুঃখিত’ বলেও জানান। দিল্লিতে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সফর নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে যে দলের (বাম ও কংগ্রেস) বিরুদ্ধে লড়াই করছে, দিল্লিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে তৃণমূল।
এরপর সুর বদল না করেই কমিউনিস্ট পার্টিকে জোরদার আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যাঁরা বাংলায় ৩০ বছর ধরে রাজত্ব করতেন। একটি রাজনৈতিক বিচারধারাকে নিয়ে বাংলার কী অবস্থা করেছেন, তা সারাদেশ জানে। মমতাজির ১৫ বছরের পুরনো ভাষণ শুনলে বুঝতে পারবেন, এই রাজনৈতিক ধারা বাংলার কতটা সর্বনাশ করে দিয়েছে।’
মমতা সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘কৃষকদের জন্য যখন এত ভালোবাসা, তাহলে তখন নিজেদের ভূমি বাংলায় কৃষকদের ন্যায়ের জন্য, প্রধানমন্ত্রী কিষান-নিধি প্রকল্পের টাকা যাতে কৃষকরা পান, সেজন্য আন্দোলন করেননি কেনও? বাংলায় কৃষকদের কথা ভাবা নেই, কিন্তু পাঞ্জাব নিয়ে চিন্তিত!
প্রধানমন্ত্রীর মমতা কটাক্ষের মধ্যে দিয়েই, ভোটের দামামা বেজে গেলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।





