তৃণমূলের ঘরে কি ফের ফাটল? ভোটের বাজারে হঠাৎই দিলীপ ঘোষের গলায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্তুতি!

ভোটের বাংলায় খবরে জায়গা করে নেওয়া নেতা মন্ত্রীদের মধ্যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অন্যতম। সদ্য তৃণমূল ত্যাগী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর নামও একই সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছিল।
সম্প্রতি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। ‌ প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন তৃণমূল হাইকমান্ডের। তিনিও কি  বিজেপির দিকে ঝুঁকে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যেই তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেতারা ও শাসক দলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু কোন‌ও লাভ হয়নি। রাজীবের মান ভাঙাতে এবার একান্ত বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
এই সব রাজনৈতিক কচকচানির মধ্যেই এবার রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় এক জনসভায় হঠাৎই রাজীব প্রশংসা করে বসেন তিনি। সৎ মানুষ বলে রীতিমতো সার্টিফিকেট‌ও দিয়ে দেন। বলেন, দুর্নীতিতে জড়াতে চাননি বলে রাজীববাবুকে সেচ দফতর খোয়াতে হয়েছে।
ভোটের বাংলায় বাক্-আক্রমণের লড়াইয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূল সরকারকে একের পর এক বানে বিদ্ধ করেন দিলীপবাবু। এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পাকা নদীবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় কাঠগড়ায় তোলেন রাজ্য সরকারকে। দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির জন্যই হয়নি পাকা নদীবাঁধ। এমনকী, সেই দুর্নীতিতে শরিক না হওয়ায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেচমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে নামখানার সভা থেকে কি বললেন দিলীপবাবু?
বৃহস্পতিবার নামখানায় দিলীপবাবু বলেন, ‘সুন্দরবনের সমস্ত নদীবাঁধ পাকা হওয়ার কথা ছিল। ওই রাজীববাবু তখন সেচ মন্ত্রী ছিলেন। তিনি একটু ভাল লোক, ওসবের মধ্যে নেই। তিনি বাঁধ তৈরি করতে শুরু করলেন। ভাইয়েরা কাটমানি পেল না। তাঁর মন্ত্রিত্বটাই পাল্টে দিল। বনমন্ত্রী করে দিল। বলল, যা জঙ্গলে ঘোর এবার। সে উল্টো পাল্টা বলেছে একটু, কী ক্ষেপে গেছে দিদি। জঙ্গলে গেলে তো মন খারাপ হবেই। ভাল কাজ করতে পারবেন না’।
গত কয়েকদিন ধরেই বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সমর্থনে অনুগামীদের পোস্টারও পড়েছে।
ইতিমধ্যেই বঙ্গ রাজনীতিতে গুঞ্জন উঠতে শুরু করেছে নতুন বছরের প্রথম মাসে অমিত শাহ্’র সফরে কি তাহলে ফের বড়সড় দলবদল ঘটতে চলেছে? উত্তর দেবে সময়
 
 

RELATED Articles