দেশে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্তরের (Sexual harassment) যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটছে, যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের পাশাপাশি, নারীরা একাধারে প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, বিশেষ করে কর্মস্থল, রাস্তা, বা পাবলিক প্লেসে। এই অত্যাচারের মধ্যে লিঙ্গভেদ, ক্ষমতার অজুহাত ও সামাজিক নিরবতা ছাড়া কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না।
বর্তমানে সমাজে হেনস্থার শিকার শুধু নারীরা হচ্ছেন, তা নয়, ছেলেরাও সমানভাবে এই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছে। বেশ কিছু পরিসংখ্যান ও ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, কিশোর বা পুরুষদেরও যৌন হেনস্থার শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। যেহেতু সমাজে এই বিষয়টি এখনও অনেকাংশে অবহেলিত, তাই এর থেকে মুক্তির জন্য সচেতনতা এবং আইনি পদক্ষেপের গুরুত্ব আরো বেড়ে চলেছে। হেনস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে, লিঙ্গভেদ নির্বিশেষে সব শিকারীর প্রতি সমান মনোযোগ ও সহানুভূতির প্রয়োজন।
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ১৬ বছরের এক নাবালক নিজের কাকিমার হাতে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কাকিমা দীপিকা বিশ্বাস (৩৫) তার নিজের শারীরিক লালসা মেটানোর জন্য ছেলেটিকে হেনস্থা করেন। এ ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্ত কাকিমাকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সমাজে এমন অপ্রত্যাশিত অপরাধের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।
নাবালক ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জানালে তার পরিবার দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এবং যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত কাকিমাকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। পরিবার এই ঘটনার পর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছে, এমন আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা উচিত নয় এবং অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ রাজপথে নামল ডাক্তারের ঢল! শুরু নতুন আন্দোলন! সঞ্জয় রায় দোষী কিন্তু আসল অপরাধী কে?
গ্রেপ্তারের পর দীপিকা বিশ্বাসকে আদালতে হাজির করা হয়, এবং আদালত তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মামলার আইনজীবী সমীর দাস এ ঘটনার সম্পর্কে বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। একটি নাবালক তার নিজের কাকিমার দ্বারা এমন আচরণের শিকার হতে পারে, এটা ভাবা যায় না। আমরা অভিযুক্ত মহিলার শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আদালতে আবেদন জানাব।” এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিবাদ উঠেছে এবং সমাজের বিভিন্ন মহল ন্যায়বিচারের জন্য সোচ্চার হয়েছে।






